কলকাতা, মে ৭: চলচ্চিত্র শতবর্ষ ভবনের ব্যবস্থাপনায় এবং নন্দনের সহযোগিতায় ১৫২ আসনের ঐতিহ্যবাহী রাধা স্টুডিও ৬ মে শুক্রবার থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে জনগণের জন্য।

প্রেক্ষাগৃহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ-অভিনেতা দেব, রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, ইন্দ্রনীল সেন, পরিচালক গৌতম ঘোষ, হরনাথ চক্রবর্তী, এবং বিধায়ক-অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী।

দেব বলেন, “সিনেমাহল আমাদের কাছে মন্দিরের থেকে কম কিছু নয়। কিন্তু যেভাবে সব সিঙ্গল স্ক্রীন সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে সিনেমাহল বাড়ানোর এর চেয়ে ভাল কিছু হতে পারে না”।

রাধা স্টুডিও ইতিহাসের পাতায় নাম তোলার দিনে একই পাতায় নাম উঠল দেবেরও। জনগণের জন্য খুলে দেওয়ার পরে হলভর্তি দর্শক প্রথম দেখলেন দেব প্রযোজিত এবং দেব-রুক্মিণী অভিনীত ‘কিশমিশ’। ইতিহাসের পাতায় সামিল হওয়া নিয়ে উচ্ছ্বসিত দেব বলেন, “আমি এইভাবে ভাবিইনি ব্যাপারটা। তবে ইতিহাসের পাতায় নাম থাকলে কার না ভাল লাগে! এটা সত্যিই দারুণ একটা অনুভূতি”।

নিজের শুরুর দিকের ছবির সিঙ্গল স্ক্রীনে মুক্তি পাওয়ার কথার সূত্র ধরে সাংসদ-অভিনেতা বলেন, “টালিগঞ্জ চত্বরে সেভাবে আর কোনো সিঙ্গল স্ক্রীন নেই, সবই প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই চত্বরে সমস্ত আধুনিক সুবিধাসহ একটা হল খুব দরকার ছিল”।

দেব আগেও ‘নন্দন’-এর অল্প দামের টিকিট নিয়ে খুবই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি মাল্টিপ্লেক্সের টিকিটের অত্যধিক দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি কাউকেই ছোট করতে চাইছি না, তবু বলছি মাল্টিপ্লেক্সে টিকিটের যা দাম তা কোনও একটা জায়গায় গিয়ে মধ্যবিত্ত বাঙালির পকেটে কিছুটা চিমটিই কাটে বলে আমার মনে হয়। সেখানে নন্দনে এখনও শীততাপ নিয়ন্ত্রিত সিনেমাহলে ৫০ টাকায় ছবি দেখা যায় আর রাধা স্টুডিওতে ৩০ টাকার টিকিটে ছবি দেখা যাবে। আমি লিখে দিতে পারি, খুব খারাপ কিছু না হলে এই রাধা স্টুডিও কখনও খালি যাবে না”।

তবে দর্শক বাংলা ছবি দেখছেন না কথাটার সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করছেন না ঘাটালের সাংসদ। যথেষ্ট জোর দিয়েই বললেন, “আমি বিশ্বাস করি ছবি যদি ভাল হয় দর্শক ঠিক দেখতে আসবেন। আমি আমার শেষ চারটে ছবি দিয়ে এটা বুঝেছি। ‘কিশমিশ’ নন্দনে বেশিরভাগ শো’ই হাউসফুল হচ্ছে। প্রায় অ্যাডভান্সে ৯০০ টিকিট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। দর্শক আসবেন তো বটেই, তবে খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার যেটা সেটা হল আমাদের সিনেমাহলের সংখ্যা বাড়াতে হবে”।

একের পর এক সিনেমাহল বন্ধ হওয়ার সময়ে নতুন একটা সিনেমাহল খোলা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করে দেব বলেন, “যেখানে সিনেমা হলে আমাদের ছবিগুলো শো পায়না সেখানে একটা আলাদা সিনেমাহল করে দেওয়া হচ্ছে বাংলা ছবি দেখানোর জন্য, এই কারণে আমি সাংসদ হিসেবে নয়, একজন সিনেমার কর্মী হিসেবে দিদিকে কুর্নিশ জানাব যে এরকমভাবে তিনি ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন। টিকিটের দাম দেখলেই বোঝা যাবে যে এখানে টাকা রোজগারটা উদ্দেশ্যে নয় বরং মানুষকে বাংলা ছবি দেখানোটাই আসল উদ্দেশ্য”।

Loading

Spread the love