অতনু রায়

কলকাতা, মে ১৬: তাঁর অভিনয়ে মুগ্ধ আট থেকে আশি। যতটা তিনি কমার্শিয়াল ছবির, ততটাই তিনি অন্যধারার ছবির। ঝুলিতে আছে সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার। যতটা সাবলীল তিনি ধ্রুপদী নাচের মঞ্চে ততটাই সাবলীল তিনি মাচা’র অনুষ্ঠানে। আগামী ২০ মে মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর নতুন ছবি শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় – নন্দিতা রায় পরিচালিত ‘বেলাশুরু‘। তার আগে ‘টলিউড ডিভা’ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (Rituparna Sengupta) খোলা মনে আড্ডা দিলেন।

প্রশ্ন: সব শুরুর একটা শেষ থাকে। তেমনই সব শেষের পরেও একটা শুরু থাকে। ঠিক যেমন ‘বেলাশেষে’র পরে ‘বেলাশুরু’ আছে। তোমার ব্যক্তিগতভাবে এরকম কোনো শেষের পরে শুরুর কথা আছে?

ঋতুপর্ণা: হ্যাঁ। আমিও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে, সব শেষের পরেই একটা শুরু থাকে। আমরা অনেক কিছুই শেষের পরে আবার নতুন করে শুরু করি। সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়ার পরে আবার আমাদের নতুন করে চেতনার উদয় হয় যে যা শেষ হয়ে গেছে সেটা নিয়ে আমরা আর চিন্তাভাবনা করব না, আবার নতুন করে শুরু করব। আমার সত্যিই মনে হয় কোনও কিছুই শেষ হয়ে যায় না, একটা রেশ ছেড়ে যায় যা আরেকটা শুরুর উৎস হতে পারে। তেমনভাবেই, ‘বেলাশেষে’র পরেও আমাদের মনে হয়েছে সব কিছু শেষ হয়নি, শুরু হওয়ার মত অনেক কিছুই রয়ে গেছে।

প্রশ্ন: ছবিতে তোমার নাম মালশ্রী। মালশ্রী রাগ দিয়েই তো বেলা শুরু হয়। ‘বেলাশুরু’ ছবিটা তোমার কাছে কতটা স্পেশাল?

ঋতুপর্ণা: আমার কাছে ‘বেলাশুরু’ খুব স্পেশাল। কারণ, আমি আমার পরিবারকে খুব ভালবাসি আর এটা একটা পারিবারিক গল্প। পারিবারিক গল্পের যে টান, ভালবাসা, বন্ধন সেটা অপূর্বভাবে এই ছবিতে দেখানো আছে। একটা একান্নবর্তী পরিবারকে যে মায়া আর ভালবাসার বন্ধনে আমরা রাখতে পারি, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে ‘বেলাশেষে’ থেকে ‘বেলাশুরু’ ছবিটা। কারণ, আজকে একটা আত্মকেন্দ্রিক জীবনে থাকতে থাকতে নিজের টুকু ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারে না মানুষ। ‘আমি’ আর ‘আমরা’ ব্যস! ‘আমাদের’, ‘সবার’, ‘সবাইমিলে’, এই কথাগুলোই যেন অনেকটা কমে যাচ্ছে। সেইখানে দাঁড়িয়ে, এই ছবিটা এরকমই একটা গল্প বলবে যা নিয়ে আমরা হয়তো ভাবব যে চলো সবাই মিলে আবার একসাথে শুরু করি। মিলিত চিন্তাভাবনা, টিমওয়ার্ক, একটা পরিবারের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনেক সঠিক জায়গা তৈরি করে। যখন দেখি ভাই-বোন কারোর মিল নেই, কথা বলছে না, কিংবা সম্পত্তি নিয়ে কেউ আলাদা হয়ে গেছে, তখন খুব দুঃখ হয়। এই ভাই-বোনেরাই হয়ত ছোটবেলায় একসঙ্গে এক থালা থেকে ভাগ করে খেত, একজনের পা কেটে গেলে আরেকজন কাঁদত, সেখানে আজকে হয়ত আর সে ভাইয়ের খোঁজ করেনা। এইগুলো তো সত্যি কথা, কারণ এইগুলো আমরা রোজ দেখছি। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে যদি আমরা একটা ভালবাসার বন্ধনে নিজেদেরকে বাঁধতে পারি, খুব ভাল একটা এগজাম্পল্ তৈরি হবে, পরিবার কথাটার একটা মানে থাকবে। পরিবার তো শুধুমাত্র স্বামী, স্ত্রী আর একটা বাচ্চা নয়, পরিবার হচ্ছে বাবা-মা, কাকা-কাকিমা, ভাই-বোন, মাসি-পিসি সবাইকে নিয়ে। আমার যেমন মেজদি পিসি, ছোড়দি পিসি, বুনি, মুন্না, এইগুলো ডাকার আর কেউ নেই কারণ তাঁরা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু তাঁদের স্মৃতিগুলো রয়ে গেছে তাঁরা যে সম্পর্কের সম্মানগুলোকে শিখিয়ে গেছেন সেগুলো তো রয়ে গেছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আমার মনে হয়, যে ‘বেলাশেষে’ থেকে ‘বেলাশুরু’ আমাদের সম্পর্কের শিকড়কে অনেক দৃঢ় করবে। দর্শকের কাছে একটা এগজাম্পল্ হবে যে মারামারি না করেও অনেক মুশকিল আসান হতে পারে যদি সবাই মিলে একটা সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রশ্ন: একসঙ্গে খাওয়ার যে ব্যাপারটা তুমি বললে, এখনকার বাচ্চারা কিন্তু মোটেই এসবে স্বচ্ছন্দ নয়…

ঋতুপর্ণা: আমার বাচ্চারাই তাদের একটু দূর সম্পর্কের কাজিনদের ঠিকঠাক করে চেনেও না। কারণ, আজকে সবাই একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে গেছে। তবে আমি চেষ্টা করি সবার মধ্যে কানেকশনটা তৈরি করার। বলতে পার সেটা আমার ইচ্ছে, আমার ভাল লাগা। আমি যখন তরুণ মজুমদারের ‘চাঁদের বাড়ি’ ছবিটা করেছিলাম, সেখানে উনি খুব ইন্টারেস্টিং একটা জিনিস করেছিলেন। ছবির শেষে পরিবারের সবাইকে নিয়ে একটা ফটো উৎসব করেছিলেন আর ওটাই শেষ সিন ছিল। সমস্ত আত্মীয়রা ওখানে এসেছিলেন। জাপানে নাকি প্রচলন আছে এইভাবে ফটো উৎসব, যেখানে একই ফ্রেমে পরিবারের প্রত্যেকে থাকবে। এটা আমার তরুণ মজুমদারের কাছ থেকেই অনেকটা শেখা যে, পারিবারিক সম্পর্কগুলোর কিভাবে মূল্য দিতে হয়। ‘বেলাশুরু’তেও বেশকিছু ফ্যামিলি ফটোগ্রাফ নেওয়ার মুহূর্ত রয়েছে, সেই মুহূর্তগুলো খুব সুন্দর হয়েছে। কে বাবার পাশে বসবে, কে মায়ের পাশে বসবে, কে দাদাকে জড়িয়ে ধরে বসবে, কে দিদিকে আদর করবে এইসব নিয়ে খুব মজা হয়েছে। এই ভালোবাসার সম্পর্কগুলোকে আমিও খুব মিস করি। আমার পিসতুতো দিদি এডিনবরাতে থাকে, আমার মাসতুতো বোন মুম্বইতে থাকে। ওদের সঙ্গে যখন দেখা হয় তখন না ভিতর থেকে একটা টান অনুভব করি। মনে হয়, এটাই আমাদের শিকড়, এটাই আমাদের রক্ত। রক্তের সম্পর্কের টানগুলো যদি হারিয়ে যায় তাহলে! মানুষ একা হতে হতে একটা নির্জন দ্বীপের মধ্যে বাস করতে কি পারে? ‘রিলেশনশিপ’ কি তাই বলে?

প্রশ্ন: তুমি অবলীলায় ‘অনসম্বল কাস্ট’ ছবিতে অভিনয় করো যা তোমার সমসাময়িক অনেক প্রথম সারির অভিনেতা-অভিনেত্রীরা করতে চাননা। তোমার কখনও স্ক্রিন স্পেস নিয়ে ‘ইনসিকিওরিটি’ হয়নি?

ঋতুপর্ণা: না, হয়নি। কারণ, আমার শিবু (শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়) আর নন্দিতা দি’র (নন্দিতা রায়) উপর এতটাই ভরসা আছে আর এতটাই নির্ভর করতে পারি যে আমি জানি ওরা যদি আমাকে কোনও ছবিতে ‘কাস্ট’ করে তাহলে চরিত্রটার উপর ‘ইনজাস্টিস’ করবে না। বরং চরিত্রটাকে এত সুন্দর ভাবে পরিবেশন করবে যে চরিত্রটা সবার মধ্যে থেকেও আলাদা হয়ে উঠবে। আর আমাকে যদি জিজ্ঞাসা কর, আমি মনে করি ‘বেলাশুরু’ এবং ‘বেলাশেষে’র মতো ছবিতে অংশ নেওয়া উচিত একটা সুন্দর আগামীর জন্য। আমরা তো ছবির মাধ্যমেই মানুষকে মেসেজ দিই, যে ভাবনার প্রচার করতে চাইছি সেটা করি। তাই এই ছবিটা কিন্তু আমার কাছে সমাজের একটা আয়না। এই আয়নাটাই যদি আমরা দর্শকদের দেখাতে পারি যে এই ভাবেও ভালবাসা যায় আর বেঁচে থাকা যায়, তাহলে কেন নয়? একটা ভাল কাজের মধ্যে যদি আমি সামিল হতে পারি তাহলে হোক্ না সেটা একটা বড় টিমওয়ার্ক। আমরা আগে কত বড় বড় ছবি দেখেছি বল তো যেখানে বড় বড় অভিনেতারা একসঙ্গে কাজ করেছেন এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একে অপরকে অ্যাপ্রিশিয়েট করেছেন! আমার কাছে এটা একটা একান্নবর্তী পরিবারকে ‘রিপ্রেজেন্ট’ করার একটা সুযোগ। সেটাও তো আমি চাইব দর্শককে দেখাতে এগজাম্পল্ হিসেবে। যেমন আমি কিছুদিন আগে ‘বসু পরিবার’ (সুমন ঘোষের ছবি) করেছিলাম। ওখানেও পারিবারিক বন্ধনের জায়গাটা ছিল।

প্রশ্ন: তুমি পারিবারিক ছবি খুব পছন্দ করো, তাই তো?

ঋতুপর্ণা: পারিবারিক ছবি আমি খুবই পছন্দ করি আর দেখতেও ভালবাসি। আমি যখন ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো সার্চ করি আমি কিন্তু পারিবারিক ছবিই সার্চ করি। গুজরাটি, মারাঠি, দক্ষিণ ভারতীয় ভাষায় অনেক পারিবারিক ছবি তৈরি হয় দেখেছি। আমি প্রচুর কোরিয়ান এবং ফিলিপিয়ান পারিবারিক ছবি দেখেছি। আমার মনে হয় যে, নিজেরা কতটা করছে তার বাইরে গিয়ে মানুষ পারিবারিক ছবি দেখতে কিন্তু ভালবাসে। পারিবারিক ছবি দেখে অনেক কিছু বোঝা যায়, শেখা যায়। তাই পারিবারিক ছবিকে আমরা যতটা প্রমোট করতে পারব ততটাই আমরা প্রমোট করতে পারব পারিবারিক বন্ধনকে।

প্রশ্ন: এই যে তুমি অন্যান্য দেশের পারিবারিক ছবি দেখো, আমাদের পারিবারিক ছবির সঙ্গে কতটা মিল-অমিল পাও? কতটা কানেক্ট করতে পার?

ঋতুপর্ণা: আমাকে যদি তুমি জিজ্ঞাসা কর বলব, এথনিসিটি বা কালচারালি প্রত্যেকটা জায়গার মানুষ হয়ত কিছুটা আলাদা। আর তারা আলাদা হবেই তাদের বেড়ে ওঠার ফারাকের জন্য। তবে তাদের মত করে আমি দেখিনা, আমি দেখি আমি কতটুকু নিতে পারছি সেখান থেকে। সবসময় যে আমাদের মত হবে তা কিন্তু নয় কারণ ওদের পরিবারের ভ্যালু সিস্টেমটা হয়ত অন্যরকম। সেই সিস্টেমটা যদি আমরা আনতে পারি আমাদের পরিবারের মধ্যে সেটা হয়তো একটা ভাল শেখা। আমি সেইভাবেই ছবি দেখি এবং উপভোগ করি। আবার অনেক সময় মনে হয়, আমাদের কতকিছু একই রকমের! কিছু কিছু অনুভূতি কিন্তু সবসময়ই এক। বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক বা ভাই-বোনের সম্পর্ক তো আর অনেক বদলানোর কিছু নেই, তাদের মত করে প্রকাশটা হয়ত আলাদা হয়।

প্রশ্ন: বাংলা ছবি বললেই যে কথা এখন চলে আসছে, ‘বাংলা ছবির পাশে দাঁড়ান’। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া উত্তাল। কেন বাংলা ছবির পাশে দাঁড়াতে বলা হচ্ছে সেই প্রশ্নেই আমি ঢুকছি না। তোমার কি মনে হয়, মানুষ বাংলা ছবির পাশ থেকে সরে গেল কেন যে আবার পাশে দাঁড়ানোর কথা বলা হচ্ছে?

ঋতুপর্ণা: দেখো, বাংলা ছবি তো মানুষকে সবসময় উর্বর করেছে, অনেক বড় জায়গায় নির্ভরতা দিয়েছে। বাংলা ছবি আন্তর্জাতিক মানচিত্রে একটা বড় জায়গা করে নিয়েছে। গ্লোবালি বাংলা ছবি রিকগনাইজড তো আজকে থেকে নয়! সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটক, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, ঋতুপর্ণ ঘোষ বা এখনকার পরিচালক যাঁরা আছেন তাঁরা আন্তর্জাতিক মানকে বাংলা ছবিতে নিয়ে এসেছেন বহুবছর ধরেই। আমার মনে হয়, বাংলা ছবির একটা বিরাট কদরের জায়গা আছে। তবে এই কোভিড সিচুয়েশন বাংলা ছবি বা সিনেমাহল সবকিছুকে কোথাও-না-কোথাও একটু নাড়া দিয়েছে। হয়ত দর্শক আরেকটু থিতু হচ্ছে। তবে আমি মনে করি মানুষ কখনোই বাংলা ছবিকে বঞ্চিত করবেন না। যে আবেগ, ভালবাসা বা মুহূর্ত বাংলা ছবি তৈরি করে সেগুলো একেবারেই আলাদা।অন্য ভাষার ছবিও নিশ্চয়ই তৈরি করে কিন্তু বাংলার যে ইনডেপথ্ ব্যাপারটা রয়েছে, সাহিত্য বা কালচারাল মিলিউ রয়েছে সেগুলো শুধু বাংলা ছবিতেই পাওয়া যায়। তাই আমাদের দর্শকদের সবসময় বলতে হবে যে বাংলা ছবি দেখুন আর বাংলা ছবিকে ভালবাসুন। তবে বাংলা ছবি নিয়ে উত্তেজিত থাকেন দর্শক, এমন নয় যে সেটা একেবারেই নেই। এটাও ঠিক, আমাদেরকে আরও বেশি মোটিভেশন দিতে হবে দর্শককে, আরও ভাল কিছু নিয়ে আসতে হবে যাতে দর্শক আবার হলমুখী হয়।

প্রশ্ন: সেই জায়গা থেকে তোমাকে আমি যেটা জিজ্ঞাসা করব, একটা সময়ে তোমরা যেসব ছবি করেছ সেগুলো সিনেমাহল ভরিয়ে দেখেছেন। আজকে কি কোনভাবে কনটেন্টের সঙ্গে মানুষের একটা দূরত্ব তৈরি হয়ে যাচ্ছে বলে মনে কর?

ঋতুপর্ণা: না, তেমন নয়। এখন যেসব ছবি চলছে বেশ কিছু মানুষ তো দেখছেন সেগুলো সিনেমাহলে। আরেকটা জিনিস হচ্ছে, যে সময় থেকে আমরা শুরু করেছিলাম বা আমাদের আগেও যাঁরা শুরু করেছিলেন তাঁদের কাছে এই ধরনের একসাথে কম্পিটিশন ছিলনা। এখন এত অপশন হয়ে গেছে মানুষের কাছে! হাতের মুঠোয় ছবি দেখতে পাওয়া, এটাও তো একধরণের কম্পিটিশনই বটে। আগে ছবি দেখার জন্য মানুষকে সময় বার করতে হত কিন্তু এখন ছবি দেখার জন্য সময় বার করতে হয়না, নিজের সময়মত ছবি দেখে নেয় মানুষ। আগে যেমন ছিল যে ৩ টের শো বা ৬ টার শো তাই সময়ের মধ্যে সিনেমাহলে ঢুকতে হবে আর এখন মানুষ রাত ১২টা তেও ছবি দেখতে পারে আবার ভোরবেলায় উঠেও দেখতে পারে। এখন হয়ে গেছে, ঠিক আছে এখানে দেখতে পেলাম না তো ওখানে দেখে নেব। ছবিটা দেখা নিয়ে তো কথা। এই অ্যাটিটিউডটা মানুষের মধ্যে আছে, যেটা বদলাতে হবে। বাংলা ছবিকে যদি সত্যিই দর্শকরা ভালবাসেন তাহলে ছবির যে জায়গা সেই থিয়েটারে মানুষকে আসতে হবে, ছবিটা দেখতে। সেটাই হচ্ছে ছবিটাকে মর্যাদা দেওয়া। এটা কিন্তু একটা কমিটমেন্টের মধ্যেও পড়ে। আমাদের যে রকম কমিটমেন্টের মধ্যে পড়ে একটা ভাল ছবি দর্শকদের উপহার দেওয়া তেমনই দর্শকদের কমিটমেন্টের মধ্যে পড়ে ভাল ছবিটা এসে দেখা। কারণ তাঁদের জন্যই তো আমরা ছবিটা বানাই। এটা কিন্তু দক্ষিণ ভারতে অসাধারণভাবে আছে। ওখানে কেউ বলতে পারবেনা যে তাঁরা ছবি বানায় আর সেই ছবি দর্শক দেখেনা।

প্রশ্ন: হ্যাঁ, তাঁরা তো অন্য ভাষার ছবি না দেখে আগে দক্ষিণী ভাষার ছবিটা দেখেন…

ঋতুপর্ণা: অন্য ভাষার ছবি আসেও না। সেখানে তাঁরা শুধু তাঁদের ভাষাকেই প্রমোট করে যাতে লোকেরা শুধু তাঁদের ভাষার ছবিই দেখে। আমি সেটা করতে বলছিনা, সেটা রিজিডিটি। বাংলা তো ফ্লেক্সিবল্। আমি রিজিডিটি চাইছি না কিন্তু দর্শকেরও তো কিছুটা রেস্পন্সিবিলিটি থাকে ছবিটা সিনেমাহলে এসে দেখার যাতে বাংলা ছবিকে আমরা বাঁচিয়ে রাখতে পারি। আমরা তো দর্শক ছাড়া বাংলা ছবিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারব না, তাই সেই জায়গাটা আমাদের দর্শকদের সঙ্গে তৈরি করতে হবে মিলেমিশে।

প্রশ্ন: বাংলা ছবিতে থাকতে গিয়ে জাতীয় স্তরে কখনও নিজের কেরিয়ার তৈরি করতে সময় আর মন দুটোই দিলেনা। আজকে যখন ঘরের লোক অপমানসূচক কথা বলে, কখনো পাকাপাকিভাবে মুম্বই না যাওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য আক্ষেপ হয়?

ঋতুপর্ণা: মুম্বইতে এখন কাজ করছি অন্ অ্যান্ড অফ্। টুকটাক কাজ আমি করতেই থাকি মুম্বইতে। আমার ভাল লাগে। কিন্তু আমি কখনও কোনও কিছুকে প্রেসারাইজড্ ভাবে করতে চাইনা। দেখো, আমি আমার জীবনে যেগুলোকে প্রায়োরিটি দিয়েছি সেটাও দেখতে হবে। এমনিতেই বলে যে আমি নাকি এখনও ভাল করে সংসার করে উঠতে পারিনি, যদিও অনেকগুলো বছর কেটে গেছে, আমার কাজের চাপে। তাও আমি মনে করি, আমি যতটা করতে পেরেছি বা যতটা করতে পারি সেটাই আমার কাছে অনেক। আমি গত বছর থেকে মুম্বইতে একটু বেশি করে কনসেনট্রেট করছি। দু-তিনটে হিন্দি ছবি শেষ করলাম, আগামী দিনেও করব। আমার মত করে সুন্দর কিছু কাজ রেখে যাব, যেটা নিশ্চয়ই দর্শকদের ভাল লাগবে।

প্রশ্ন: ওয়েব সিরিজ করবে?

ঋতুপর্ণা: হ্যাঁ, করব। ইচ্ছে আছে। অনেক ওয়েবসিরিজের অফার আসছে আমার কাছে তবে আমি একটা বেস্ট অফার বেছে নেব।

প্রশ্ন: তুমি মাল্টিটাস্কিং-এর এপিটোম। ছবি, নাচ আর সংসার তিনটে একা হাতে সামলাও। এর রেসিপি কি?

ঋতুপর্ণা: এর রেসিপি হচ্ছে ‘পজিটিভিটি’। এর সঙ্গে আমার ‘অপটিমিস্টিক ভিউজ্’ আর অনেক কিছু করার উদ্যোগ।

Loading

Spread the love