কলকাতা, জুলাই ৪: প্রখ্যাত পরিচালক তরুণ মজুমদারকে হারিয়ে অভিভাবকহীন হল টলিপাড়া। বেশ কিছুদিন ধরে বর্ষীয়ান এই পরিচালকের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছিল। অবশেষে জীবন যুদ্ধে হার মানলেন প্রখ্যাত পরিচালক। কিডনি ও ফুসফুসের সমস্যা নিয়ে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। আজ সকাল ১১ টা ১৭ মিনিটে কলকাতার এসএসকেএম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তরুণ মজুমদার। বর্ষীয়ান এই পরিচালকের মৃত্যুতে শোকবিহ্বল টলিউড।

টলিউডের ইন্ডাস্ট্রি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় শোকবার্তায় জানালেন, “তরুণ মজুমদারের প্রয়াণ খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আমরা বাংলা সিনেমায় যাঁদের নিয়ে গর্ব বোধ করতাম সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটক, থেকে অজয় কর, তপন সিনহা এবং শেষ মানুষ তরুণ মজুমদার। যাঁকে আমি ব্যক্তিগতভাবে গুরু মানি। আমি শিক্ষক মনে করি তরুণ মজুমদারকে। উনি আমাদের বাংলা ছবির স্তম্ভ। তনু জেঠু চলে গেছেন। বয়স হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু খুবই দুঃখজনক”।

প্রসেনজিৎ আরও বলেন, “অনেকেই জানেন না আমার প্রথম কাজ সাত বছর কি আট বছর বয়সে তনু জেঠুর ‘রাহাগীর’ নামে একটি ছবিতে। আমার বাবার ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। পরবর্তীকালে আমি তরুণ মজুমদারের ‘পথভোলা’, ‘আপন আমার আপন’ ছবিতে অভিনয় করেছি। তার থেকে অনেক বেশি আমি ওঁনার কাছে শিখেছি। একদিকে যেমন আমাদের এই জেনারেশনের উপর তাঁর স্নেহ ছিল আরেক দিকে আমাদের শিক্ষক ছিলেন। আজ সত্যিই মনে হচ্ছে আমাদের শিক্ষক আমাদের গুরু চলে গেলেন। আমি ভারতে নেই। দেশের বাইরে আছি। আমি ওঁনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর রাখতাম। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী আমাকে জানালেন তনু জেঠু চলে গেছেন। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের ভারতীয় সিনেমার জন্য বিশাল বড় ক্ষতি। তবে তিনি তাঁর কাজের মধ্যে চিরকাল থাকবেন। আজ আমরা যেটুকু শিখেছি সেটা সবটাই আপনার শেখানো। আপনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন”।

Loading

Spread the love