অতনু রায়

কলকাতা, জুন ১৬: বাংলা ছবির জগতে তিনি কাটিয়ে ফেলেছেন চার দশক। এখনও নতুন ধরণের চরিত্রের জন্য তাঁর যা খিদে, তা দেখে অবাক হতে হয়। যেমন ভাবে হাতের তালুর মত চেনেন ইন্ডাস্ট্রিকে, ঠিক তেমন ভাবেই বোঝেন দর্শকের মন। ১৭ জুন মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর নতুন ছবি, সৌভিক কুন্ডু পরিচালিত ‘আয় খুকু আয়’। ছবি মুক্তির আগে একান্ত আড্ডায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বললেন অনেক না জানা কথা।

প্রশ্ন: বুম্বা দা, ছবির ট্রেলার দেখে মনে হয়েছে যে, এই ছবিতে আমরা তোমাকে দু’রকম ভাবে পাব। ‘আয় খুকু আয়’ কি ‘হার্ডকোর কমার্শিয়াল’ ছবির প্রসেনজিৎ এবং অন্য ধারার ছবির প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে একসঙ্গে ধরতে চেয়েছে?

প্রসেনজিৎ: এটা খুব ভাল প্রশ্ন করেছ। দেখো, প্রসেনজিৎ, মানে আমি যে মেইনস্ট্রিম ছবিগুলো করেছি এটা ঠিক সেই ধারার ছবি নয়। আবার ট্রেলার দেখে তুমি যদি সেখানে কমেন্টগুলো পড়ো, দেখবে প্রচুর কমেন্ট আছে যাতে লেখা ‘গুরু ইজ্ ব্যাক’। এটা দেখে ডিজিটালেও অনেকে বলছেন যে বুম্বা দা আবার ফিরে এসেছে। এবার ফিরে আসা মানে আমার সেই মারদাঙ্গার ছবিও এটা নয়। এটা একেবারেই একজন নির্মল মন্ডল এবং তাঁর মেয়ের ছবি যার মধ্যে একটা ভীষণ রকম মেইনস্ট্রিম মোড়ক আছে। তবে সেটা যেরকম পুরোনো বাংলা ছবিতে হত সেরকমই ঘরোয়া। এটা সবারই ভাল লাগবে আবার একইসঙ্গে মানুষ বুঝতে পারবেন যে ইমোশনগুলোর বাইরেও একটা গল্প রয়েছে। সেইটা দেখেই সবাই বলছে যে মেইনস্ট্রিম জায়গাটা আছে, থ্রিলারের একটা এলিমেন্ট রয়েছে। এবারে অনেকেই ভাবছেন যে একটা রিভেঞ্জের জায়গাও রয়েছে। আমি বলব না কি আছে, ছবিটা দেখতে হবে সেটা জানতে।

প্রশ্ন: দুটো চরিত্র তো একেবারে ভিন্ন দুটো মাত্রা পেয়েছে?

প্রসেনজিৎ: যদি এককথায় বল, যে ধরণের কমার্শিয়াল ছবি আগে আমরা করতাম তাতে মারপিট, গান-বাজনা থাকলেও একটা ইমোশনাল ইম্প্যাক্ট হত। যে কারণে একটা সময়ে আমাদের ‘ফিমেল অডিয়েন্স’ মানে মা-বোন এঁরা খুব বাংলা ছবি দেখতেন এবং গ্রামের দিকে তাঁরাই হল ভরিয়ে রাখতেন। এই ছবিটা দিয়ে আমার আবার ওই দর্শক শ্রেণীটাকে ক্যাটার করার খুব ইচ্ছা আছে। তাই এই ছবিটাকে জিতের প্রযোজনা সংস্থা ওদের আগের ছবি ‘রাবণ’-এর মত মাল্টিপ্লেক্সের বাইরেও প্রচুর সিঙ্গল স্ক্রিনে রিলিজ করাচ্ছে। এই ছবিটা দেখে কোনোভাবে ওদেরও মনে হয়েছে যে মাল্টিপ্লেক্সের বাইরে বুম্বা দা’র যে দর্শক রয়েছে ছবিটা তাদের ক্যাটার করতে পারে। আর আমিও এই ছবিটা করেছিলাম কারণ, অদ্ভুত একটা মিশ্রণ আছে এখানে। আমার অন্য ধারার ছবির মতই একটা চরিত্র হচ্ছে নির্মল মন্ডল, আর একটা মানুষ আছে সেটা অবশ্যই প্রসেনজিৎ। একটা বড় টুইস্ট আছে সেটা কিন্তু কোনও জায়গায় ট্রেলারে পরিষ্কার নয়। ট্রেলারে বুম্বা আঙ্কল বলছে, আবার সোহিনী বলছে যে ‘প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রগড়ে দেব’। তবে প্রসেনজিৎই নির্মল মন্ডল নাকি নির্মল মন্ডল প্রসেনজিৎ, সেটা আমি এখন বলব না, তার জন্য ছবিটা দেখতে হবে।

প্রশ্ন: এই ছবিতে আমরা বাবা-মেয়ের রসায়ন দেখব। এখানে তোমাকে একটা কথা না বলে পারছি না, তোমার গ্ল্যামার এখনও পর্যন্ত তোমাকে পর্দায় খুব বেশি বার বাবা হতে দেয়নি। তোমার সঙ্গে মিশুকের (তৃষাণজিৎ) সম্পর্কের যে রসায়ন সেটা কি এই ছবিটা করতে গিয়ে তোমাকে কোনোভাবে সাহায্য করেছে?

প্রসেনজিৎ: নিশ্চয়ই করেছে। দেখো, ছেলের বাবা হোক অথবা মেয়ের বাবা, একজন বাবার ইমোশনগুলো সবই এক। তবে নির্মল মন্ডলের ব্যাকগ্রাউন্ডটা একটু আলাদা। অবশ্য একটু আলাদাও বলব না কারণ, এই ধরণের মানুষ প্রচুর আছেন। দিন আনা – দিন খাওয়া, সকাল বেলায় উঠে ডেইলি-প্যাসেঞ্জারি করে অন্য একটা শহরে এসে রুজি-রুটির ব্যবস্থা করে বাড়ি ফেরা মানুষ শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, ভারতবর্ষেও প্রচুর আছেন। এই ধরণের মানুষগুলোর কথা কিন্তু আমরা ছবিতে খুব একটা দেখিনা। আমার কাছে যখন স্ক্রিপ্টটা প্রথম এসেছিল, এটাই আমাকে সব থেকে বেশি আকর্ষণ করেছিল। কারণ, বাবা তো হব ঠিক আছে। সে আমি প্রসেনজিৎও তো বাবা! একটা বড় অংশের মানুষ যাঁরা তাঁদের পরিবারের জন্য, ছেলেমেয়েদের জন্য লড়াই করছেন, এটা তাঁদের গল্প। তারপরে যখন তাঁরা ঘরে ফেরেন কখনও সফল হন আবার কখনও হন না কিন্তু তার মধ্যেও তাঁরা একটা বেঁচে থাকার মানে খুঁজে পান। তেমনভাবেই এই ছবিতে নির্মলের বেঁচে থাকার পুরো কারণটাই তাঁর মেয়ে বুড়ি। তার হাসিতে সে হাসে, তার দুঃখে সে দুঃখ পায়, তার কষ্টে সে কষ্ট পায়। এটাই কিন্তু সব বাবা-মায়ের চরিত্র কমবেশি। এখানে নির্মলকে বাবা এবং মা দুটো চরিত্রেই অভিনয় করতে হয়েছে যেহেতু সে বাবা হিসেবে একা। বুড়ির মা অল্প বয়সে চলে গেছেন সেটাও আমরা দেখাচ্ছি ট্রেলারে। এই ছবিতে তাই মানুষটাকে বাবার যা কাজ সেটাও করতে হচ্ছে আবার মায়ের যা যা কাজ সেটাও করতে হচ্ছে। সে মেয়ের চুলও বেঁধে দেয়, কাপড়ও কেচে দেয় আবার হকারিও করে। এই ব্যাপারটা আমাকে খুব আকর্ষণ করেছিল।

প্রশ্ন: ২০১১ সালে তুমি হরনাথ চক্রবর্তীর একটা ছবি করেছিলে “চলো পাল্টাই’। ‘চলো পাল্টাই’ ছবির বাবা শুভময়ের থেকে নির্মল মন্ডল কতটা আলাদা? আলাদা তো নিশ্চয়ই, তাই তুমি করছ, কিন্তু কোন জায়গা থেকে আলাদা?

প্রসেনজিৎ: অনেকটাই আলাদা। দেখো, বাবা তো বাবা-ই। ওখানে একটা বিষয় ছিল, ছেলে যেটা করতে চায় সেটাকে সেই অর্থে সে সাপোর্ট করে না। এখানেও একটা ব্যাপার আছে যেটা ট্রেলারেও আমরা দেখছি যে, মেয়ে বড় হয়ে নাচতে চাইছে আর বাবা বারণ করছে। কিন্তু এই বারণ করার পিছনে ইমোশনটা কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। আসলে এই মানুষটিরও কোথাও একটা শিল্পবোধ ছিল, সেই কারণে একটা ভয় তাকে বেশি করে তাড়া করে বেড়ায় যে তুমি স্টেজে ওঠা মানেই যে সফল হবে তা নয়। এইটা নিয়ে একটা দ্বন্দ্ব আছে বাবা এবং মেয়ের মধ্যে যেটা এই ছবির একটা বড় জায়গা। আমরা যখন ছোট ছিলাম, বাবা-মা যা বলতেন আমরা স্বাভাবিকভাবেই ভাবতাম যে তাঁরা ভুল বলছেন। এবার ওই সময়টাতে যখন আমরা এসে পড়েছি, আমাদের মনে হচ্ছে বাবা-মা ঠিকই বলতেন। এটা কিন্তু প্রত্যেক ঘরের গল্প। এটা কোনও প্রচন্ড শক্ত বা প্যাঁচালো গল্প নয়। বরং ‘সিম্পলিসিটি’ এই ছবির ইউএসপি। যা আমাদের মধ্যবিত্ত বাড়িতে রোজ ঘটে, সেরকম ঘটনাই আছে এই ছবিতে।

প্রশ্ন: আমরা ট্রেলারে দেখছি যে নির্মল প্রসেনজিৎকে নকল করে। ‘গুরু ইজ্ ব্যাক’ প্রসঙ্গে বলি, যখন তুমি নির্মল হয়ে প্রসেনজিৎকে নকল করছিলে কখনও একবারও অস্ফুটে বলে উঠেছ ‘গুরু’?

প্রসেনজিৎ: (হেসে) আমাদের ছবিতে একটা সংলাপ আছে। বুড়িরই সংলাপ, ট্রেলারেও আছে। ‘তোমার গুরু আর তুমি, তুমি ওই নিয়েই পড়ে থাকো’। হ্যাঁ, এখানে একদিকে ‘গুরু’ আছে আর একদিকে নির্মল। আবার নির্মলের কাছেও তাঁর কেমন অদ্ভুত একটা ইমেজ। তুমি জানো যে, আমার এরকম ফলোয়ার্স প্রচুর আছে। ইউটিউব খুললে এখনও প্রসেনজিৎ জুনিয়র আছে, যাকে একটু লং থেকে দেখলে বা হাঁটা চলা দেখলে মনে হয় প্রায় আমার মত। এরকম মানুষ কিন্তু প্রচুর আছেন চারিদিকে যেটা খুব ইন্টারেস্টিং। এখানে প্রসেনজিৎকে আঁকড়ে ধরে একটা লোক বাঁচতে চায় এবং তাঁর সেই সততাটা কখনও কমেনি। কিন্তু সেটাইতো সব নয়, আরও অনেকগুলো ফ্যাক্টর কাজ করে যেখানে গিয়ে মানুষটা আসলে একজন ‘ফেলিওর’। যে কারণে মেয়ে তাকে এক জায়গায় বলছে, ‘তোমার হয়নি কারণ তুমি পারো নি বলে। এর মানে এই নয় যে, আমি পারব না’। এই জায়গাটা থেকে পরিষ্কার হয় যে, মানুষটা কোনও একটা জায়গায় ফেল করে। আরও একটা সংলাপ আছে, ‘অন্তত একবার দেখিয়ে দাও তুমি প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি হতে না পারলেও তুমি মেয়ের বাপ’। এই সংলাপগুলো আমার খুব ইন্টারেস্টিং আর টাচি মনে হয়েছে।

প্রশ্ন: আর এই ছবির বাইরে গিয়ে যদি আমি বুম্বা দা’কে জিজ্ঞাসা করি, স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাউকে নকল করতে হলে তুমি কাকে করবে?

প্রসেনজিৎ: মানে কোন অভিনেতাকে নকল করব বলছ?

প্রশ্ন: হ্যাঁ, অভিনয়ের ক্ষেত্রে হলে তুমি কাকে নকল করবে?

প্রসেনজিৎ: নকল করা খুবই ডিফিকাল্ট। তবে হ্যাঁ, আল পাচিনো কে করব। আর বাংলা ছবির ক্ষেত্রে নকল যদি নাও বলি, কিছু কিছু অভিনেতা এমন কাজ করে গেছেন! সে আমি মহানায়ক উত্তমকুমারের কথাই বলি বা সৌমিত্র কাকুর কথা, এঁরা এমন একটা স্কেল আমাদের সামনে রেখে গেছেন যে সেটা ‘ইনস্পিরেশন’ তো বটেই। তারপরে অমিতাভ বচ্চন! কমার্শিয়াল ছবি বা যে কোনো ধারার ছবি করতে গেলে এই মানুষগুলোর প্রচুর কাজের অনেক কিছুই আমাকে অন্তত ‘ইন্সপায়ার’ করে, আর এটা সবসময়ই করে।

প্রশ্ন: হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ‘আয় খুকু আয়’ গানে ছিল, ‘আয়রে আমার কাছে আয় মামনি, নতুন নতুন সুর নে শিখে নে’। তুমি দিতিপ্রিয়াকে ওর জীবনের জন্য কি পাঠ দিলে?

প্রসেনজিৎ: ও খুবই ভাল মেয়ে, পরিশ্রমী মেয়ে আর খুব ছোট। ও এখন বাবা বলেই ডাকে আমাকে, বুম্বা মামু বলত প্রথমে। আর আমারও ওই দিতিপ্রিয়া নামটা আসেনা, এমনই একটা অভ্যাস হয়ে গেছে যে আমিও ওকে বুড়িই বলি। এটা কিন্তু ছবির কোনও প্রচারের জন্য নয়, খুব স্বতঃস্ফূর্তভাবেই তৈরি হয়েছে। কারণ, ও আর মিশুক প্রায় সমবয়সী আর শ্যুটিং করতে করতে ও আমার খুবই ন্যাওটা হয়ে গিয়েছিল। আমরা যখন শ্যুটিং করেছিলাম তখন বেশ কঠিন সময় ছিল, সেই সময়েই একটা অদ্ভুত বন্ডিং তৈরি হয়ে গেছে। আমি ওর মুখ দেখলেই সব বুঝতে পারি। ওকে বলি, তোর খিদে পেয়েছে? আবার কখনও হয়ত বললাম, তোর ঠান্ডা লাগছে? আর এটা আমি সাধারণত খুব একটা ভুল বলিনা। ও বলে, এটা খুব অদ্ভুত ভাবে তুমি বলতে পারো। যদিও বা এখনও ওর সেটা আছে তাও আমি ওকে বলেছি যে, দেখো তোমরা তো সবে কাজ শুরু করেছ, কখনও সাফল্য পাবে আবার কখনও পাবে না। কিন্তু, সাফল্য পাওয়ার পরে মাটি থেকে পা টা যেন উঠে না যায়। সাধারণত কি হয়, ওরা ভীষণ ছোট তাই সাফল্য পেলে বিভিন্ন জিনিস মাথার মধ্যে ঢোকে, ওরা না ঢোকালেও লোকে ঢুকিয়ে দেয়।

প্রশ্ন: বুড়ি বাবার কথা শোনে ব্যক্তি জীবনে?

প্রসেনজিৎ: ওর একটা অদ্ভুত ব্যাপার আমি দেখেছি। এর আগে যতবার আমি ইন্টারভিউ দিয়েছি, ও হাঁ করে আমার কথাগুলো শুনেছে। ও বলেও এটা। ওর মধ্যে গ্রহণ করার একটা ব্যাপার আছে। সৌমিত্র কাকুরা যখন কথা বলত আমরাও ছোটবেলায় হাঁ করে শুনতাম, বলা ভাল গিলতাম যাতে কোনও কথা মিস না করি। সেই মানুষগুলোর শেয়ার করা অভিজ্ঞতার কথা আমি আমার মত করে নিজের মধ্যে রেখে দিয়েছিলাম বলে সেগুলো আজকে আমাকে প্রচুর সাহায্য করছে। ওকেও বলেছি যে, তুমি মাথাটাকে ঠান্ডা রেখো আর সাফল্যকে মাথায় উঠতে দিও না। বরং যেখানে সাফল্য পেলে না, সেটাকে নিয়ে থাকার চেষ্টা কর, ভাবার চেষ্টা কর যে কেন হল না!

প্রশ্ন: এবারে তোমাকে অন্যরকম একটা কথা জিজ্ঞাসা করি। ছোটবেলা থেকে কখনও মা বোনকে বেশি ভালবাসছে মনে হয়েছে আর সেই কারণে মাকু দি’কে (পল্লবী চট্টোপাধ্যায়) হিংসে করেছ?

প্রসেনজিৎ: আমার বোনকে আমি হিংসে ঠিক সেই অর্থে করিনি। আমরা একেবারেই পিঠোপিঠি ভাইবোন। আমার বোন বেশি বদমাইশ আর ছটফটে ছিল। আমি বরং একটু শান্ত ছিলাম, তাই আমার বোন বদমাইশিগুলো করে খুব সহজে আমার ঘাড়ে সেটা চাপিয়ে দিত। ফলে মা’র কাছে পিটুনি আমি খেতাম। (হেসে) ও আরও ভাল করে বলতে পারবে গল্পগুলো। দারুণ দারুণ সব ঘটনা আছে। তবে আমার বোন আমাকে কিরকম ভাবে ঠকাতো জানো! তখন কয়েন সবে সবে এসেছে। ধর, আমার বাবা তখনকার দিনে একটা এক টাকার কয়েন আমাকে দিয়েছে আর বোনকে দুটো চার আনা দিয়েছে। এবার বাবা চলে যাওয়ার পরে ও আমার কাছে এসে বলল, দাদা দেখ, তুই বড় তোকে একটা দিয়েছে আর আমি ছোট আমায় দুটো দিয়েছে। বলে আমাকে দুটো চার আনা হাতে ধরিয়ে দিয়ে আমার এক টাকা নিয়ে নিত। আমি তখন খুশি যে বোন আমাকে দুটো দিয়েছে কিন্তু আমার কাছে আট আনা আর ওর কাছে একটাকা। এই ধরনের বদমাইশ ছিল আমার বোন। আর আমি তখন কিরকম ধরণের একটা ছিলাম! অনেক পরে আমি বুঝেছি যে টাকার ভ্যালু কি। বোনকে হিংসে করতাম না, তবে মা দুজনকেই ভালবাসতেন। আর যা হয় পরিবারে, সবথেকে বেশি বাবার ন্যাওটা ছিল বোন আর মায়ের বেশি ন্যাওটা ছিলাম আমি।

প্রশ্ন: একটা কথা আজ জিজ্ঞাসা করি। ৩৪ টা বছর পরে আজ পর্যন্ত কখনও ‘ম্যায়নে প্যার কিয়া’ ছবিটা না করার জন্য আফসোস করেছ?

প্রসেনজিৎ: না গো, আমি আফসোস করি না। বরং আমি ওইটা মনেও করতে চাই না। কারণ, প্রথমত আমি মানি যে ডেসটিনি কেউ বদলাতে পারে না। দ্বিতীয়ত, আমি আজকে এটাও তো জানি না যে, ধরো আমি ‘ম্যায়নে প্যার কিয়া’ করলাম, সেটা সুপারহিটও হল, তারপরেও যেভাবে সলমন আজকেও ‘সলমন খান’ সেটা কি আমি বজায় রাখতে পারতাম?

প্রশ্ন: হ্যাঁ, একদমই পারতে…

প্রসেনজিৎ: …না না, এটা তোমরা বলছ। দেখো বাংলা তো আমার ভাষা, আমি বাংলা ভাষায় এত বছর ধরে এত ছবি করেছি। এটা সম্ভবত আমার ৩৪৮ নম্বর ছবি। এত কাজ করবার পরে আজও যখন কোনও জাতীয় মঞ্চে আমাকে বসানো হয় আর আমি আমার বাংলা ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিত্ব করতে পারি, আমার গর্ব হয়। তোমরা জানো যে বহুবার আমাকে এরকম ভাবে ডাকা হয়…

প্রশ্ন: …গত বছর তো তুমি ‘ইফি’তেও গেলে…

প্রসেনজিৎ: …’ইফি’তে ছিলাম। এছাড়াও সারা ভারতবর্ষে যাঁরা ছবির জগতে রয়েছেন তাঁরা বাংলা ছবির নাম করলে যে কয়েকজনের নাম করেন তারমধ্যে আমার নামটাও করেন। আমার সত্যিই গর্ব হয় যে আমি বাংলা ছবি করেই এই জায়গাটা পেয়েছি। আর দিনের শেষে আমরা সবাই কিন্তু ভারতীয় ছবিই করি, তাই আমার কোনো আক্ষেপ নেই। ক’দিন আগেই আমার সঙ্গে সুরজ বরজাতিয়ার দেখা হল একটা অ্যাওয়ার্ড ফাংশনে। উনিই আমাকে অ্যাওয়ার্ডটা দিলেন। আমি মজা করে বললাম, তুমি আমাকে কাস্ট করো নি; ও বলল, তুমিও আমাকে ডেট দাও নি। এই মজাটা আমাদের এখনও হয় তবে আমার সত্যিই কোনও আফসোস নেই এই বিষয়ে।

Loading

Spread the love