অতনু রায়

কলকাতা, অগাস্ট ১১: আজ মুক্তি পাচ্ছে তাঁদের জুটির প্রথম ছবি ‘হত্যামঞ্চ’। তবে এই জুটি অভিনেত্রী আর পরিচালক জুটি। ছবি মুক্তির আগেই একসঙ্গে জুটিতে পরিচালক আর তাঁর সুলোচনা। এসভিএফ আর ক্যামেলিয়া প্রডাকশনের যৌথ প্রযোজনায়, অরিন্দম শীলের ‘ব্যোমকেশ হত্যামঞ্চ’ মুক্তির আগেই একান্ত আড্ডায় পাওলি দাম এবং অরিন্দম শীল

প্রশ্ন: পাওলি, প্রথমবার অরিন্দম দা’র সঙ্গে কাজ করলে। অনেক পরিচালকের সঙ্গেই তো কাজ করেছ, আলাদা কি পেলে?

পাওলি: এক একজন মানুষের একেক রকম বিশেষত্ব থাকে। প্রথমত, অরিন্দম দা’র সঙ্গে বহুদিন ধরে পরিচয় এবং অনেকদিন ধরেই কাজের পরিকল্পনা হচ্ছে। সত্যি কথা বলতে, ব্যোমকেশকে অরিন্দম দা যে জায়গায় নিয়ে গেছে, যেভাবে প্রত্যেকটা চরিত্রকে প্রেজেন্ট করেছে সেটা আলাদা। ব্যোমকেশ তো আমরা ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষায় দেখে এসেছি, এখনও দেখি। ব্যোমকেশ টেলিভিশনের জন্য হয়েছে, বড় পর্দার জন্য হয়েছে কিন্তু সেই লেভেলে একটা অ্যাকসেপ্টেশন দরকার। এই যে আবীরের ব্যোমকেশ হিসেবে যে অ্যাকসেপ্ট্যান্স, তার সম্পূর্ণ ক্রেডিট আমি দেব ‘ক্যাপ্টেন অব দ্য শিপ’ অরিন্দম দাকে।

আমি অরিন্দম দার আরও অনেক ছবি দেখেছি। ডিটেকটিভ ছবি দেখেছি, শবর দেখেছি। সেখানে অপু দা’কে (শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়) যেভাবে প্রেজেন্ট করেছে, যেভাবে অ্যাকশন সিকোয়েন্স করিয়েছে সেটা কিন্তু অনবদ্য। আমাকে একটা জিনিস বলতে হবে যে, অরিন্দম দা’র ছবিতে পুরুষ অথবা নারী যেকোনো চরিত্রকে অরিন্দম দা যেভাবে প্রেজেন্ট করেন সেটা অতুলনীয়।আমার এটা খুব ইচ্ছে ছিল।

প্রশ্ন: অ্যাস্থেটিকস্ এর কথা বলছ?

পাওলি: অ্যাস্থেটিকস্ এবং মেইনস্ট্রিমের যে মেলবন্ধন ঘটায় অরিন্দম দা তাঁর ছবিতে, ওই সেনসিটিভিটি এবং সেন্সিবিলিটি খুব কম পরিচালকের মধ্যেই পাওয়া যায়।
অরিন্দম দা অনেক নারী কেন্দ্রিক ছবি করেছেন। ‘মিতিনমাসি’ করেছেন, সম্প্রতি ‘মহানন্দা’ করেছেন, একটা মহিলা চরিত্রকে একটা অন্য জায়গায় তুলে দেওয়া ব্যাপারটা পারেন অরিন্দম দা। এছাড়া, নিজে যেহেতু অভিনেতা তাই অভিনেতাদের থেকে সেরাটুকু কি করে বার করতে হয় সেটা পারেন। ব্যোমকেশ টিমের সঙ্গে কাজ করা আমার কাছে অ্যাবসলিউট প্লেজার অ্যান্ড অনার। ব্যোমকেশ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে এটা আমার প্রথম কাজ, সেটাও একটা ইচ্ছেপূরণ ‘ব্যোমকেশ হত্যামঞ্চ’-এর হাত ধরে। যে চরিত্রটা আমি করেছি, সুলোচনা, তার মধ্যে অনেকগুলো লেয়ার আর শেডস্ রয়েছে আর চরিত্রটা করতেও খুব ভাল লেগেছে। থিয়েট্রিক্যাল একটা স্পেস আছে, সিনেম্যাটিক একটা স্পেস আছে আবার পার্সোনাল একটা জার্নি আছে, এই তিনটি স্তরের মেলবন্ধন ঘটে একটা অদ্ভুত সুন্দর ভাবে সুলোচনা চরিত্রে আমাকে আর আমার লুকটাকে প্রেজেন্ট করেছে অরিন্দম দা। সেটা কিন্তু অনেকের ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে আর সেটা নিয়ে আমি অনেক মেসেজও পেয়েছি যে, ‘বহুদিন পরে তোমাকে এত সুন্দর একটা চরিত্রে দেখছি’।

প্রশ্ন: এই জায়গাটাতে আমিও আসতে চাইছিলাম। ট্রেলার বেরোনোর পর থেকেই সুলোচনা’কে নিয়ে প্রচুর আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আলোচনাকে পাওলি কিভাবে নিচ্ছে?

পাওলি: সেই জন্যই তোমার আগের প্রশ্নে আবার ফেরত যাই, দ্যাটস্ দ্য রিজন আই ওয়ান্টেড টু ওয়র্ক উইদ্ ডিরেক্টর অরিন্দম শীল (হাসি)।

প্রশ্ন: অরিন্দম দা, তুমি এবার একদম অন্যরকম একটা ব্যোমকেশ মানুষকে দিচ্ছ কারণ একটা অসমাপ্ত গল্প নিয়ে এই ছবি। অসমাপ্ত গল্পের বিভিন্ন রকমের পরিণতি মানুষ ভাবতে থাকেন, সেই জায়গাতে দাঁড়িয়ে পরিচালক হিসেবে এই ছবিটা বানানোর তোমার কাছে সোজা ছিল নাকি বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল?

অরিন্দম: এটাই সবথেকে ইন্টারেস্টিং যে, ব্যোমকেশের গল্প অথচ খুনি কে বা কারা সেটা আমরা জানি না। আরেকটা জায়গা হচ্ছে, তিনটে ব্যোমকেশ করে ফেলার পর শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে, তাঁর ওয়ে অব্ অ্যাপ্রোচের সঙ্গে এবং ব্যোমকেশের সঙ্গে একটা আত্মীয়তা ঘটে গেছে। সেটা করতে গিয়ে ওই সাইকোলজিতে আমি আর পদ্মনাভ দাশগুপ্ত হয়তো ভাবতে শুরু করেছি। আমরা ভাবতে চেষ্টা করেছিলাম যে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় যদি ‘বিশুপাল বধ’ গল্পটা শেষ করতেন তাহলে কি করতেন। উপন্যাসের শুরুতেই কোথাও একটা উল্লেখ আছে, খুনি কে তার উল্লেখ, সেইটাকে ক্র্যাক করে গল্পটাকে এগিয়ে নিয়ে গেছি। সেটা এখন বলতে পারব না তবে ছবি রিলিজ হয়ে যাওয়ার বেশ কিছুদিন পরে যদি আবার আমাদের দেখা হয়, তখন সেটা বলতে পারব। দু একটা জিনিস খুব ইন্টারেস্টিং। এক নম্বর, নকশাল আন্দোলনের পটভূমি আর দু’নম্বর হচ্ছে বাংলা বাণিজ্যিক থিয়েটারের রমরমা এবং অবক্ষয়ের শুরু ক্যাবারে দিয়ে। এই সমস্ত জায়গাগুলোকে কোথাও একটা একসঙ্গে পেয়ে সেই পটভূমিতে ছবি করতে খুব মজা পেয়েছিলাম। আমার যেকোনো থ্রিলার শুধুমাত্র একটা খুন হল বা ক্রাইম ঘটল বা তার কি সলিউশন হল সেটা নিয়ে নয়। আমি সবসময়ই চেষ্টা করেছি সামাজিক-অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটগুলোকে এক্সপ্লয়েট করতে, এক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি বরং আরও বেশি করে ঘটেছে। এখানে এই রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট গল্পের ক্রাইমের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।

প্রশ্ন: তোমার এই ছবিতে নাটকের মঞ্চ অনেকটা বেশি আছে। তুমি কি নাটক পরিচালনার কথাও ভাবছ?

অরিন্দম: না, আমি আসলে যেটাতে স্পেশালাইজ করেছি সেইটা করতেই আমার বহু সময় কেটে গেছে, ১০ বছর কেটে গেছে ইতিমধ্যেই আর ৩৫ বছরের আমার যে এই জগতের জীবন তার এক্সপেরিয়েন্স থেকে আজকে আমি চলচ্চিত্র পরিচালক হয়েছি। এর বাইরে এখনই যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়, তবে হ্যাঁ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে অ্যামেচার নাটক আমি পরিচালনা করেছি এবং সেটাও খুব মজা করেই করেছি। এই ছবির ক্ষেত্রে ট্রিটমেন্টটা খুব মজার হয়েছে, কারণ এই ছবির যেমন একটা সিনেম্যাটিক ট্রিটমেন্টও রয়েছে তেমনই ছবির ভেতরে নাটকের ট্রিটমেন্ট আছে এবং সিনেমা ও ক্যামেরার ভাষায়, মিউজিক দিয়ে এবং অভিনয় দিয়ে সেটাকে ডিফারেনশিয়েট করার একটা চেষ্টাও হয়েছে। কোথাও গিয়ে এটা একটা চেম্বার ড্রামা। ব্যোমকেশের একটা লার্জার দ্যান লাইফ ইমেজ রয়েছে যেটা আমরা আমাদের ছবিতে সবসময় করেছি তেমনি চেম্বার ড্রামাও যে গ্র্যান্ড করা যায় সেটার একটা চেষ্টা আমরা করেছি এই ছবিতে। আমি রেফারেন্স হিসেবে ‘ডেথ অন দ্য নাইল’ এর মত ছবির কথা যদি বলি, বাজেট সীমিত হওয়া সত্বেও সেইরকম একটা ব্যাপারে আমরা এই ছবির মধ্যে করার চেষ্টা করেছি।

প্রশ্ন: পাওলি, তোমাকে সবসময়ই আমরা অন্য ধারার ছবির মুখ হিসেবে দেখেছি। একদম হার্ডকোর কমার্শিয়াল ছবি তুমি সেভাবে করনি। আজ কি যে ধরণের ছবি কখনও করনি সেইগুলো করতে চাইবে?

পাওলি: সত্যি কথা বলতে, ব্যোমকেশ কিন্তু আমার কাছে মেইনস্ট্রিম ছবি। যেভাবে অরিন্দম দা ছবিটা তৈরি করেন, বাণিজ্যিক সাফল্য দেয় আর যেভাবে বিষয়টাকে তুলে ধরা হয় তাতে ব্যোমকেশকে আমি মেইনস্ট্রিম ছাড়া অন্য ধারার ছবি বলতেই পারবনা। সেই কারণেই আমার ব্যোমকেশ করা। মানুষ ব্যোমকেশ দেখতে খুব পছন্দ করেন। আর হার্ডকোর কমার্শিয়াল ছবি মানে ‘ডান্সিং অ্যারাউন্ড দ্য ট্রি’ তো এখন হয়ও না তবে ডেফিনিটলি আমার অ্যাকশন ওরিয়েন্টেড ছবি বা রম-কম বা সাই-ফাই যদি হয় করব। আমাদের এখানে অনেক ধরণের কনটেন্ট আমরা এক্সপ্লোর করতে পারিনা বাজেটের জন্য। যদি বাজেট ইস্যুটা না থাকত আর মার্কেট ভায়াবিলিটি থাকত তাহলে ডেফিনেটলি সাউথের মত মেইনস্ট্রিম ছবি এখানেও হত। দর্শক যত বাংলা ছবি দেখতে আসবেন, সাপোর্ট করবেন, মার্কেট তত গ্রো করবে আর আমরা এক্সপেরিমেন্ট করতে পারব আর ওই ধরণের মেইনস্ট্রিম করতে পারব নিশ্চয়ই। আমার মতে, কনটেন্ট যদি ভাল হয় দর্শক দেখবেন। একটা ইনটিউশন পাওয়া যায় কিন্তু কাজ করতে করতে যে এইটা মনে হয় দর্শকদের ভাল লাগবে। যে কোনও শিল্পীরই সেটা মনে হয়। সেটা আমার ‘হত্যামঞ্চ’ করতে গিয়ে মনে হয়েছে। লার্জার দ্যান লাইফ স্পেসেও অনেক অ্যাস্থেটিক থাকে, রিয়্যালিটি থাকে। সেই জায়গাগুলো যদি ঠিক করে সাজানো যায় যেটা এই ছবিতে ভীষণভাবে আছে, আমার মনে হয় অন্য ব্যোমকেশের থেকে একটু আলাদা করে দেয়। এই গল্পটা সম্পূর্ণভাবে কলকাতাকেন্দ্রিক। কলকাতাতেই বিভিন্ন লোকেশনে শুট করা হয়েছে, রিয়্যাল লোকেশনে শুট করা হয়েছে। ব্যোমকেশ-সত্যবতীর বাড়ি কেয়াতলাতে, সেখানেই শুট করা হয়েছে। ওখানেই ওরকম একটা বাড়ি পেয়েছিলেন অরিন্দম দা। আমার বাড়ি, মানে সুলোচনা’র বাড়ি হাজরাতে একটা জায়গায় শুট করা হয়েছে। আমরা থিয়েটারের স্পেসটা দমদমে তৈরি করেছিলাম। পুরোটাই কলকাতাকেন্দ্রিক। কলকাতার বাইরে গিয়ে এই ছবিটা শুট করা হয়নি কিন্তু টিজার, ট্রেলার রিলিজ হওয়ার পরে মানুষের খুব বড় কিছু মনে হয়েছে, গ্র্যান্জার, ভিজ্যুয়ালি স্ট্রাইকিং, আমি এই শব্দগুলোর ব্যবহার করছি কারণ এই মেসেজগুলো আমি পেয়েছি। এটাইতো লার্জার দ্যান লাইফ, এটাইতো মেইনস্ট্রিম। আমরা বাংলার গল্পকে কি বড় করে দেখাতে পারি না? মেইনস্ট্রিম রূপে দেখাতে পারি না? পারি। ব্যোমকেশ ইজ্ ওয়ান অব্ দেম। ব্যোমকেশ মেইনস্ট্রিম (হাসি)।

প্রশ্ন: পাওলি, তোমাকে শেষপ্রশ্ন। এখন তো তুমি ব্যোমকেশ টিমের মেম্বার এই নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। কিন্তু তোমার প্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র কোনটা?

পাওলি: (হাসি) সত্যি কথা বলতে, আমার গোয়েন্দা গল্প এমনিতেই খুব ভাল লাগে। সবকটা গোয়েন্দা, দেশ-বিদেশ জুড়ে যাঁরা যাঁরা আছেন প্রত্যেকের প্রতিই আমার শ্রদ্ধা আছে। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বিইং আ টিম মেম্বার অব্ ব্যোমকেশ হত্যামঞ্চ, আমি বলব ব্যোমকেশ ইজ মাই ফেভারিট।

প্রশ্ন: অরিন্দম দা, বাংলায় যতজন ব্যোমকেশে বানান, সবাই তোমার পরিচিত এবং বন্ধু মানুষ। তোমার ব্যোমকেশ তাঁদের ব্যোমকেশের থেকে কোথায় আলাদা?

অরিন্দম: একটা কথা আমি বলতে পারি যে, ব্যোমকেশ যে লার্জার দ্যান লাইফ, ব্যোমকেশের যে একটা ব্যপ্তি সেটা বোধহয় আমাদের ছবি থেকেই প্রথম প্রকাশিত হয়েছে এবং সেটা মানুষ অ্যাকসেপ্ট করেছে। সেই জন্যেই গত সাত বছর ধরে চারটে ব্যোমকেশ হয়েছে এবং এত সাফল্য পেয়েছে। সেই জন্য আমি আমার দর্শকদেরকে কৃতজ্ঞতা জানানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারিনা। আমি এতটাই কৃতজ্ঞ দর্শকদের কাছে যে, আমি বলব যে তাঁরাই কিন্তু আসলে আমাদের ব্যোমকেশকে আলাদা করে তুলেছেন এবং এই ব্যোমকেশের এতটা ডিমান্ড সেই ক্ষেত্রে থেকেই ঘটেছে। আর ব্যোমকেশের যে ব্যপ্তির কথা বলছিলাম, কারণ সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল ব্যোমকেশকে ডেকে পাঠাচ্ছেন কেস সলভ্ করার জন্য বা সাজেশন নেওয়ার জন্য তার মানে ব্যোমকেশ ইজ আ ন্যাশনাল ফিগার। আমি বলি ব্রিটিশারদের কাছে শার্লক হোমস যেরকম ভারতীয়দের কাছে ব্যোমকেশ তাই। ব্যোমকেশের থেকে বড় ডিটেকটিভ কিন্তু সেই হিসেবে তৈরি হয়নি, যদিও আমাদের ফেলুদা রয়েছে, শবর রয়েছে, সবাই রয়েছে আর তাদের নিয়েও আমি কাজ করছি কিন্তু কোথাও গিয়ে ব্যোমকেশের একটা সম্পূর্ণতা আছে একজন ডিটেকটিভ হিসেবে, বাঙালি হিসেবে। ব্যোমকেশের ব্যপ্তি এই কারণেও যে, ব্যোমকেশ অ্যাডাল্ট দর্শককেও অনেকটা ক্যাটার করে। ফেলুদা যেরকম ভীষণভাবে ছোটদের জন্য, ব্যোমকেশ নয়।

প্রশ্ন: শেষ জিজ্ঞাসা, তুমিও কি বলবে যে বাংলা ছবির পাশে দাঁড়ান নাকি অন্য কিছু বলবে?

অরিন্দম: ভাল কনটেন্ট যদি আমরা তৈরি করতে পারি তাহলে ডেফিনিটলি সেই কনটেন্ট দেখতে মানুষ আসবে। এই মুহূর্তে বাংলা ছবিতে ভাল কাজ হচ্ছে এবং অসাধারণ কিছু ভালো অভিনেতা অভিনেত্রী, তাঁদের মধ্যে অনেকেই আমার এই ছবিতেও কাজ করেছেন, সেই স্বাক্ষর রাখছে। সুতরাং, আমরা যদি ভাল কাজ করি তাহলে আমাদের যোগ্য ভালবাসাটুকু দেবেন এটুকুই বলব। ব্যোমকেশ ও সত্যবতীর হাত ধরেই বোধহয় একটা রেকর্ড তৈরি হল যে এই ছবিটা মাত্র দু মাসে তৈরি হয়েছে। ১ জুন থেকে শুটিং শুরু হয়েছিল আর ১১ অগাস্ট ছবিটা রিলিজ করছে। আজকে কিন্তু চলচ্চিত্র তৈরীর সংজ্ঞাটা বদলে গেছে। চলচ্চিত্রকেও অনেকগুলো মিডিয়ামের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে এবং সেইখান থেকে ছবি তৈরি করা এবং লগ্নিকে প্রযোজকের কাছে ফেরত দেওয়াও একটা লড়াই। আর ব্যোমকেশ হত্যামঞ্চ কলকাতা দুটো অন্যতম প্রযোজনা সংস্থা এসভিএফ এবং ক্যামেলিয়া প্রযোজনা করলেন। এই যে দুটো বড় প্রযোজনা সংস্থা একটা ছবি করবার জন্য এরকম ভাবে এগিয়ে এলেন এটাও কিন্তু প্রচন্ড ইতিবাচক একটা জায়গা। এই ইতিবাচক দিকগুলো যত বেশি করে ঘটবে বাংলা সিনেমার ভাল নিশ্চয়ই হবে আর বাংলা সিনেমার আমাদের মূল জায়গা তো সবসময়ই দর্শক সেই দর্শক যদি আমাদের ছবি পছন্দ করেন তাহলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।

Loading

Spread the love