কলকাতা, জুলাই ২৪: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৩২ তম মৃত্যুবার্ষিকীর প্রাক্কালে প্রকাশিত হলো দেবারতি মুখোপাধ্যায়-এর নতুন উপন্যাস ‘ঈশ্বরের অন্তিম শ্বাস’। প্রাতঃস্মরণীয় পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনকালের শেষ কয়েকটি বছরের আলো ফেলেছেন লেখক তাঁর এই উপন্যাসে। কলকাতা প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে দীপ প্রকাশন-এর পক্ষ থেকে প্রকাশ হল নতুন এই উপন্যাস। উপস্থিত ছিলেন বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট লেখক বারিদবরণ ঘোষ, বিশিষ্ট লেখক ও অধ্যাপক নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী সহ আরও অনেকে।

নিজের উপন্যাসকে অন্যরকমভাবে নির্মাণ করেছেন দেবারতি। তিনজন ভ্লগার ট্র্যাভেল ভ্লগ বানাতে গিয়ে খুঁজে পায় কার্মাটাঁড় জায়গাটাকে যেখানে জীবনের শেষ ১৮-২০ বছর কাটিয়েছিলেন বিদ্যাসাগর। এই তিনজনের মধ্যে দিয়ে আসলে খুব সোজা ভাষায় বিদ্যাসাগরের বিস্মৃত ইতিহাস তুলে ধরেছেন ঔপন্যাসিক। উপন্যাসের মোড়কে এক শিক্ষিতা নারীর গুরুদক্ষিণাই হল ‘ঈশ্বরের অন্তিম শ্বাস’।

উপন্যাসের শেষে খুব প্রশংসনীয় ভাবে রাখা হয়েছে ‘লেখকের কৈফিয়ৎ’। কেন এই উপন্যাস এবং কি তার প্রেক্ষাপট, সেটিই ব্যাখ্যা করেছেন ঔপন্যাসিক। সঙ্গে বেশ কিছু প্রাসঙ্গিক এবং স্বল্প প্রচারিত ছবি মান বাড়িয়েছে বইটির। অতিরিক্ত প্রাপ্তি ঔপন্যাসিক দেবারতির কলমে প্রবন্ধ ‘নারী শিক্ষায় বিদ্যাসাগর: বিদ্যাসাগর না জন্মালে আমরা কি করতাম’ এর নির্বাচিত অংশবিশেষ। খুব উল্লেখযোগ্য ভাবে দেওয়া হয়েছে এক দীর্ঘ সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি যা উপন্যাসের বইতে তেমন একটা চোখে পড়েনা।

উপন্যাসের প্রকাশ সম্পর্কে বলতে গিয়ে দীপ প্রকাশন-এর কর্ণধার শংকর মন্ডল বলেন, “দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের ‘ঈশ্বরের অন্তিম শ্বাস’ আসলে ঈশ্বর পুরুষের জীবনের অনেক না জানা ঘটনাকে ছুঁয়ে গেছে। এরকম এক গবেষণাধর্মী উপন্যাসের প্রকাশ করতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। আশা করি এই বই বাঙালি পাঠকের কাছে যথেষ্ট সমাদৃত হবে”।

এই উপন্যাসের বিন্যাস এবং বিষয় ভাবনা বুঝিয়ে দেয় কেন দেবারতি মুখোপাধ্যায় লেখক হিসেবে নিজের একটা স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করে নিতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর কৈফিয়তে দেবারতি লিখছেন, “অন্য কোন উপন্যাস লিখেই মনের এত শান্তি পাইনি, এভাবে আবেগ মনের তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে ঝংকার তোলেনি, যা তুলেছে “ঈশ্বরের অন্তিম শ্বাস!” এই লেখা যেন আমায় মর্মে মর্মে উপলব্ধি করিয়েছে জীবনের অর্থ, মানুষ হয়ে জন্মানোর অর্থ। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে, এখনো কত উত্তরণ বাকি, কত সংশোধন রয়ে গেছে চরিত্রগঠনে। কখনো লিখতে লিখতে চোখ জলে ভরে উঠেছে, কখনো রাগও হয়েছে ভীষণ। উপন্যাসটিতে ‘সাঁওতাল’ বা এই জাতীয় কিছু সম্বোধন দৃষ্টিকটূ লাগতে পারে কিন্তু দেড়শো বছর আগেকার পটভূমি অনুযায়ী উপন্যাসটির একটা বড় অংশ লেখা হয়েছে। উপন্যাসের প্রয়োজনে সৃষ্টি করতে হয়েছে কালিদাস, ভৈরবকান্তি, শ্বেতাকে। এই তিনজন ছাড়া বিদ্যাসাগরের সমসাময়িক কাহিনীধারাটিতে সব চরিত্রই সত্য”।

বিদ্যাসাগরের জীবনের ১৮৭৩-৭৪ থেকে ১৮৯১ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত সময়পঞ্জী ১৯০ পাতার এই উপন্যাসের দাম রাখা হয়েছে ২৪৯ টাকা।

Loading

Spread the love