পূর্বাশা দাস

কলকাতা, এপ্রিল ২৯: ২৯ এপ্রিল থেকে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই’তে স্ট্রিমিং শুরু হয়েছে দেবালয় ভট্টাচার্য পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘মন্টু পাইলট’ (Mon2 Pilot) সিজন ২ এর । এই সিরিজে মন্টুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন সৌরভ দাস। আজ মুখোমুখি মন্টু ওরফে সৌরভ দাস

প্রশ্ন: তুমি যখন প্রথম ‘মন্টু পাইলট’-এ অভিনয় করেছিলে তখন ভাবতে পেরেছিল মন্টু এতটা জনপ্রিয় হবে?

সৌরভ: না, আমি এটা ভাবিনি। আমি প্রত্যেকটা চরিত্র যেরকম ভাবে মন দিয়ে করি এটাও ঠিক সেই ভাবেই করেছিলাম। মন্টুর ভিতরে যে ব্যথা গুলো রয়েছে সেই জিনিস গুলো আমাকে খুব টেনেছিল। তাই আমি আরও ভাল ভাবে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে পেরেছিলাম, আত্মস্থ হতে পেরেছিলাম মন্টুর সাথে। আমার মনে হয়েছিল মন্টু আমার খুব কাছের একটা চরিত্র হতে চলেছে। আমি মনপ্রাণ ঢেলে কাজ করেছিলাম। আত্মা দিয়ে যে কাজ করা হয় সেটা আমার মনে হয় লেজেন্ডারি হয়ে যায়। কাল্ট চরিত্র হয়ে যায়। আর মন্টু ২ এর ক্ষেত্রে আমার ঠিক একই জিনিস হয়েছে। আড়াই বছর আগে আমি যে ফেজ দিয়ে গিয়েছিলাম, আড়াই বছর পরেও আমি সেই মন্টুই আছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস দর্শকদের ‘মন্টু পাইলট সিজন ২’-ও ভীষণ ভাল লাগবে।

প্রশ্ন: মন্টুর কী কী ন্যুয়ান্সেস্ ক্যারি ফরওয়ার্ড করেছ?

সৌরভ: প্রত্যেকটা চরিত্রে আলাদা আলাদা ন্যুয়ান্সেস্ থাকে। মন্টুর ফিজিক্যাল ন্যুয়ান্সেসগুলো একই আছে। তুমি যেরকম হাত নাড়িয়ে কথা বলছ, পাঁচ বছর পরেও একইভাবে কথা বলবে। সেই রকমই মন্টুর ফিজিক্যাল ন্যুয়ান্সেসগুলো একই রকম আছে। তবে মেন্টালি মন্টু অনেক বদলে গেছে। অন্তর্মুখী হয়ে গেছে। আগে মন্টু খুব বহুর্মুখী ছিল, কোনও কিছুতে ভয় পেত না, কোনও চাওয়া পাওয়া ছিল না। আমার মনে হয় মন্টু এখন খুব ‘সর্টেড’ এবং ফ্যামিলি ম্যান। মন্টু পাইলট ফ্যামিলি ম্যান হলে কী হতে পারে সেটা দর্শকরা দেখবেন।

প্রশ্ন: তাহলে কী মন্টু পাইলট টলিউডের ‘ফ্যামিলি ম্যান’?

সৌরভ: অবভিয়াসলি। মন্টু পাইলট টলিউডের ফ্যামিলি ম্যান। মন্টু পাইলট ফ্যামিলি ম্যান হয়ে গেলে কী কী ঘটাতে পারে যাতে তার ফ্যামিলিটা ঠিক থাকে সেটাই দেখার।

প্রশ্ন: মন্টু পাইলট মানুষ সৌরভকে কতটা প্রভাবিত করেছে?

সৌরভ: শুধু ‘মন্টু পাইলট’ বলে নয়, আমার প্রত্যেকটা চরিত্র থেকেই আমি কিছু না কিছু একটা নিয়ে ফেরত যাই। কখনও সেটা খুব ভাল জিনিস হয় আবার কখনও খুব খারাপ হয়। তবে মন্টু পাইলট আমাকে দু’টো জিনিস ভীষণভাবে শিখিয়েছে। ‘অ্যাঙ্গার ইজ ভেরি মাচ অ্যাডিকটিভ’। সেই জিনিসটা আমার মধ্যে একটু ঢুকে গেছে। সবথেকে বড় জিনিস মন্টুর মধ্যে একটা অদ্ভুত কনফিডেন্স আছে। ও সাতজনের মাঝখানে গুলি চালিয়ে দিতে পারবে। আগুপিছু কোনও চিন্তা করবেনা। মন্টুর এই অদ্ভুত কনফিডেন্সটা কোথাও গিয়ে সৌরভের মধ্যেও চলে এসেছে। তুমি যদি তিনবছর আগে আমার চলাফেরা দেখো আর এখন আমাকে খুব ভালভাবে লক্ষ্য কর, তাহলে দেখবে আমার চলাফেরা সম্পূর্ণ অন্যরকম হয়ে গেছে। তার কারণ আমার এই কনফিডেন্স। আমি জানি, আমি যে কাজটা করব সেই কাজটা বেস্ট করব। অন্যরা অন্যদের মতো করে করবে কিন্তু আমি যখন সেই কাজটা করব আমি আমার মতো করে করব এবং সেটা একটা ছাপ রেখে যাবে।

প্রশ্ন: সহ-অভিনতা হিসেবে মিথিলা কেমন?

সৌরভ: ভীষণ ভাল। আমি মনে করি আমার সাথে অভিনয় করাটা খুব কঠিন। তার কারণ আমি পরিচালকের মতই ইম্প্রোভাইজ করি। পরিচালক ইম্প্রোভাইজ করছেন, আমিও ইম্প্রোভাইজ করছি। সে ক্ষেত্রে আমি জানিনা আমি কি কিউ দিয়েছি। এই পুরো জিনিসটা মিথিলা খুব ভালভাবে সামলেছে। ও কখনই অভিযোগ জানায়নি, যে আমি ঠিকঠাক কিউ পাচ্ছিনা। আমি কখন কী বলব আমি নিজেই জানতাম না। আমি অনেক ক্ষেত্রে ঠিকমতো কিউ দিয়েই উঠতে পারিনি। তবুও কিন্তু মিথিলা আমাদের প্যাম্পার করে পুরো কাজটা, নিজের কাজটা খুব সুন্দরভাবে করেছে। তাই অসংখ্য ধন্যবাদ মিথিলাকে।

প্রশ্ন: পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্যকে তুমি কোনও ইনপুট দিয়েছ? ইম্প্রোভাইজ করেছ কিছু?

সৌরভ: একটা কথা বলি। যে সংলাপগুলো তোমরা শুনছ, ট্রেলারে দেখেছ সেগুলো কিন্তু স্ক্রিপ্টেড ছিলনা, হঠাৎ করেই আমার মুখ থেকে বেরোয়। এই যে ‘বাড়া-বাড়ি না’ এটা কিন্তু একদম ইনস্ট্যান্ট, ইম্প্রটু এসেছিল আমার। এটাকে ‘বাই ডায়লগ’ বলা হয়। এটা কিন্তু এডিটে কেটে উড়িয়ে দেওয়া যেত। কিন্তু দেওয়া হয়নি। তারপর তো তোমরা দেখতেই পাচ্ছ এই সংলাপ কতটা পপুলার হয়েছে। এটা ইম্প্রোভাইজড। আর একটা সংলাপ যেটা চূড়ান্ত ভাইরাল হয়েছে, “পৃথিবীর তিন ভাগ জল”; সেটাও কিন্তু স্ক্রিপ্টেড ছিলনা। দেবালয় দা আমাকে বলছিল একটা মন্টু মার্কা সংলাপ বলতে। তখন আমি এটা বলেছিলাম। আসলে এই সংলাপগুলো একটা সময় বান্ধবীদের বলতাম। এমনকী ওই শেষের সংলাপটা “যে পেটের মধ্যে জোনাকি নিয়ে ঘুরছি”, ওখানে শুধু সিনটা জানতাম কিন্তু কি বলব জানতাম না। আমি একটা ফ্লোয়ের মধ্যে হঠাৎ বলি এবং সেটাই দর্শকদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় হয়।

প্রশ্ন: মন্টুকে নিয়ে প্রচুর মিম তৈরি হয়েছে। সেগুলো দেখে কেমন লাগে?

সৌরভ: আমার হেব্বি লাগে। ভীষণ ভাল লাগে। আমার খুব ভাল লাগে যেভাবে কন্টেন্টগুলোতে সেগুলো ইউজ করা হয়। যেমন “কি কি কি আরেকবার বলুন?” আমার বেশ মজা লাগে। আমি মন্টুর সংলাপ নিয়ে আরও মিম দেখতে চাই। আমি এটুকু বলতে পারি ‘মন্টু পাইলট সিজন ২’ থেকেও প্রচুর মিম তৈরি হতে চলেছে।

প্রশ্ন: সৌরভ ব্যক্তিগতভাবে কোন ধরণের ওয়েব সিরিজ দেখতে পছন্দ করে?

সৌরভ: আমি ছবির দেখতে পছন্দ করি রোম্যান্টিক। আউট অ্যান্ড আউট রোম্যান্স। কাঁদতে পছন্দ করি। ‘কাল কাল হো না হো’ ধরণের ছবি আমার পছন্দ। আর যদি ওয়েব সিরিজ বল তাহলে বলব ‘স্লাইস অব্ লাইফ’ সিরিজ দেখতে পছন্দ করি, থ্রিলার দেখতে পছন্দ করি। তবে ভায়োলেন্স দেখতে পছন্দ করিনা, কোনও চরিত্রে ভায়োলেন্স করতে পছন্দ করি।

প্রশ্ন: অনুরাগীদের কাছে সৌরভের সাজ পোশাক আলোচনার বিষয়। সৌরভ কি সাজ পোশাকের ব্যাপারে খুবই খুঁতখুঁতে বা চুজি?

সৌরভ: এ ব্যাপারে খুব এক্সপেরিমেন্টাল বলতে পারো। আমি ভুলভাল জিনিস এক্সপেরিমেন্ট করে মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে নিই। তারপর দেখি সেটা কোনো না কোনো ভাবে ঠিক দাঁড়িয়ে যায়। আমার মনে হয় আমি আমার কনফিডেন্সটা ক্যারি করি। ‘আই ওয়্যার মাই কনফিডেন্স’। আমি প্রথমে আমার কনফিডেন্সটা পরি, তারপরে আমার জামা কাপড় পরি। তাই হয়ত সবার আলোচনার বিষয় হয়, ভাল লাগে। আমি খুঁতখুঁতে নই আর আমি শপিং করতেও ভালবাসি না।

প্রশ্ন: আগামী কি কি কাজ আসতে চলছে তোমার?

সৌরভ: ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ‘কর্ণসুবর্ণের গুপ্তধন’ ছাড়াও ‘রিষ’ আর ‘ইস্কাবন’ আসতে চলেছে। ‘বার্নিং বাটারফ্লাইজ্’ নামে একটি ছবি ফেস্টিভ্যালে ঘুরছে। সেটা কান-এ যাচ্ছে। এছাড়া পাভেলের ছবি ‘কলকাতা চলন্তিকা’ আসতে চলেছে। আর মন্টু পাইলট তো মানুষ দেখতে শুরুই করে দিয়েছেন। মন্টু পাইলট একাই একশো। এর সঙ্গে হইচইয়ের ‘রুদ্রবীণার অভিশাপ পার্ট টু’তে আমি অভিনয় করছি।

আমার মনে হয়, না পুড়লে খাঁটি মানুষ হওয়া যায়না: রা

Loading

Spread the love