কলকাতা, ফেব্রুয়ারি ১০: ঐতিহ্যশালী ‘অরোরা ফিল্ম কর্পোরেশন’ সবসময়ই ভিন্নধারার মননশীল ছবি পৌঁছে দিয়েছে দর্শকের কাছে। বর্তমানে অঞ্জন বসুর তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আবার ছবি প্রযোজনার জগতে ফিরেছে শতবর্ষ পেরোনো অরোরা। পরিচালক জুটি রাজদীপ পাল ও শর্মিষ্ঠা মাইতি-র ‘কালকক্ষ’র পরে একই জুটির পরবর্তী ছবি ‘মন পতঙ্গ‘ (mindflies) আসতে চলেছে অরোরার ব্যানারে। আজ প্রকাশ্যে এল ছবির চরিত্রদের ‘ফার্স্ট লুক’। একেবারে ভিন্নধর্মী এই ছবি নিয়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলির জন্য তৈরি তারা।

ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেত্রী সীমা বিশ্বাস, জয় সেনগুপ্ত, নবাগত শুভংকর মোহন্ত ও বৈশাখী রায়, অমিত সাহা, তন্নিষ্ঠা বিশ্বাস, জনার্দন ঘোষ, ত্রীবিক্রম ঘোষ, অনিন্দিতা ঘোষ, অনিন্দ্য রায় ও আরও অনেকে। রয়েছে সত্যিকারের ফুটপাতবাসী মানুষ এবং পথশিশুরা এ ছবির অন্যতম অংশ হিসাবে।

ছবির বিষয়ে পরিচালক জুটি জানালেন, “কালকক্ষ ছবির সঙ্গে এই ছবির কোনো মিল নেই। ‘কালকক্ষ’ অনেক বেশি রূপকধর্মী ছবি, ‘মন পতঙ্গ’ অনেক জীবনভিত্তিক ও প্রাণবন্ত। ‘মন পতঙ্গ’ আসলে আকাঙ্খার আখ্যান। ওড়ার, পোড়ার এবং চিতাভস্ম থেকে আগুনপাখি হয়ে ফিরে আসার গল্প ‘মন পতঙ্গ’। ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখা এবং সেই স্বপ্নকে চরিতার্থ করার জন্য সবকিছু বাজি রাখার গল্প“।

ধর্মীয় নিগ্রহের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে শহরে পালিয়ে আসা এক হিন্দু মুসলমান যুগলকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে ছবির গল্প। একসাথে ঘর বাঁধার স্বপ্ন নিয়ে গ্রামের মেঠো পথ থেকে শহরে আসা এই যুগলের ঠাঁই হয় শহুরে রাস্তার ধারে খোলা আকাশের নীচে। একদিন তাদের চোখ পড়ে রাস্তার পাশের ঝাঁ চকচকে আসবাবের দোকানের এক বিশাল আরামকেদারার উপর। তারা স্বপ্ন দেখে আর মনে মনে শপথ নেয় যে একদিন তারা দুজনে একসাথে সেই আসনে বসবে। লক্ষ্যে পৌঁছোনোর রাস্তার বিভিন্ন বাঁকে তাদের সাথে দেখা হয় নানান রঙীন চরিত্রের । কেউ তাদের বলে গণ্ডীতে গুঁজে থাকতে, লোভ না বাড়াতে, ছোট ছোট সুখে সন্তুষ্ট থাকতে। অন্যদিকে কেউ কেউ তাদের হাতছানি দেয় ধন-দৌলত, বুদ্ধিবৃত্তি ও ক্ষমতার চোরাগলিতে। আশা আর আকাঙ্ক্ষাকে পাখনা বানিয়ে উড়ে চলে তারা, যেভাবে আগুনের দিকে ধেয়ে যায় পতঙ্গ। ওদের গল্পই ‘মনপতঙ্গ’।

অঞ্জন বসু জানালেন, ”মন পতঙ্গ’ ছবির নির্মাণ শেষ করেছি আমরা। খুব শিগগিরই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অভিযান শুরু করতে চলেছি। যদিও ছবিটি বাংলা ভাষায়, কিন্তু ছবির পরিভাষা ভীষণ ভাবে আন্তর্জাতিক ও আধুনিক। বিশ্বের দরবারে এই ছবি সমাদৃত হবেই, এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আশা করি চলতি বছরের শেষে এই ছবি নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে আসতে পারব আমরা”।

Loading

Spread the love