কলকাতা, সেপ্টেম্বর ৭: ভারতবর্ষ যত ৫ ট্রিলিয়ন অর্থনীতির দিকে ছুটে চলেছে ততই একটি বিষয়ের প্রয়োজনীয়তা প্রশ্নাতীতভাবে বাড়ছে। সেই বিষয়টি হল নেতৃত্ব। সঠিক নেতৃত্বের অভাব একটা দেশকে কালখন্ডের নিরিখে কতটা পিছিয়ে দিতে পারে তা আমরা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বহু দেখেছি যার তালিকায় সাম্প্রতিকতম অন্তর্ভুক্তি শ্রীলঙ্কা। ক্রিকেট দল হোক বা রাজনৈতিক দল, সেই দলকে অন্য সবার থেকে আলাদা করে তোলার জন্য এবং দরকার যোগ্য এবং শিক্ষিত নেতৃত্বের। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমাদের দেশে বিবিধক্ষেত্রে নেতৃত্বের শিক্ষার সুযোগ থাকলেও এমন একটি বিষয়ে অবকাশ সীমিত যেখানে প্রয়োজন সবথেকে বেশি,দেশ ও সরকার চালনায়। দেশের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট বলে রাজনৈতিক এবং সরকারের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য আমাদের প্রয়োজন শিক্ষিত এবং যোগ্য নেতৃত্বের।

ঠিক এই জায়গাটাতেই পথিকৃতের কাজ করেছে পুনের এমআইটি স্কুল অব গভর্নমেন্ট। ড. বিশ্বনাথ কারাড এমআইটি ওয়ার্ল্ড পিস ইউনিভার্সিটির এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট রাহুল ভি. কারাড-এর মস্তিষ্কপ্রসূত এমআইটি স্কুল অব্ গভর্নমেন্ট (MIT-SOG) দেশের প্রথম এমন এক স্কুল যেখানে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আগামীর নেতৃত্ব তৈরির দৃষ্টিভঙ্গিকে পাখির চোখ করা হয়েছে।

২০০৫ সাল থেকে এমআইটি স্কুল অব্ গভর্নমেন্ট চালু করেছে ‘মাস্টার্স প্রোগ্রাম ইন পলিটিক্যাল লিডারশিপ অ্যান্ড গভর্নমেন্ট’ (MPG)। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের এই ডিগ্রি কোর্সে প্রথম বছরে রাজনীতি, সমাজতন্ত্র, আমলাতন্ত্র, আইনবিভাগ, মিডিয়া ও কর্পোরেট ক্ষেত্রের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশেষ সেশনে শিক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকেন। এছাড়াও থাকে ফিল্ড ভিজিট আর স্টাডি ট্যুর। দ্বিতীয় বছরে নির্বাচন এবং বিভিন্ন ইস্যু ভিত্তিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সুযোগ থাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং দলের সঙ্গে কেরিয়ার ইন্টার্নশিপ।

প্রথাগত এবং প্রযুক্তিগত পেশায় মনোনিবেশ করলেও অনেক নতুন ক্ষেত্রে ফোকাস করার অবকাশ এবং শিক্ষিত এবং দক্ষ পেশাদারদের প্রয়োজন থাকলেও সেটা সেভাবে আমাদের দেশে করা হয়ে ওঠেনি।

যাঁরা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখেন তাঁরাও প্রশিক্ষণের দিকে মনোযোগ দেন না বললেই হয়। কিন্তু এই মানসিকতা যে যথেষ্টই উদ্বেগজনক তা আমাদের দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পরিপ্রেক্ষিত বিচার করলে বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

বর্তমানে এমন নেতৃত্বের আশু প্রয়োজন যাঁরা কোন পরিস্থিতিতে কি করা দরকার সেই সম্পর্কে নিশ্চিত এবং নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। রাজনৈতিক মহলে খুব পরিচিত কথা, “সঠিক সিদ্ধান্তহীনতা যে কোনও রাজনৈতিক পরিমন্ডলের মূল শত্রু”।

রাজনীতিকে শুধুই নিঃশর্ত সমাজকল্যাণমূলক কাজের পথ ভাবা এবং মানুষকে ভাবতে বাধ্য করার জায়গা থেকে সরে এসে একটি পেশা হিসেবে ভাবার পরিমন্ডল তৈরির চেষ্টাই করছে এমআইটি স্কুল অব্ গভর্নমেন্ট। এমন এক পেশা যাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ থাকে, আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে হয়। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।

শুধুমাত্র কোর্স নয়, দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের আরও সম্পৃক্ততার জন্য এমআইটি স্কুল অব্ গভর্নমেন্ট আয়োজন করে ভারতীয় ছাত্র সংসদ। চলতি শিক্ষাবর্ষের ১৫-১৭ সেপ্টেম্বর পুণের স্বামী বিবেকানন্দ সভা মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে ১২ তম ভারতীয় ছাত্র সংসদ (Indian Student Parliament)।

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, প্রাক্তন লোকসভা স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত ব্যক্তিত্ব তাঁদের বক্তব্য রেখেছেন ভারতীয় ছাত্র সংসদে। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, বৃন্দা কারাট, লিয়েন্ডার পেজ সহ আরও অনেকেই বক্তব্য রেখেছেন এই ফোরামে।

Loading

Spread the love