কলকাতা, অগাস্ট ২৬ (UNI Bangla): ই-কমার্স সংস্থা মিশো (Meesho) হাত ধরল ভারতীয় ক্রিকেটের ‘মহারাজ’ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের। সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডল থেকে সংস্থার জন্য করা একটি প্রমোশনাল ভিডিও শেয়ারও করেন সৌরভ। সংস্থাটি ঘোষণা করেছে যে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৩০ হাজারেরও বেশি ছোট ব্যবসা ইতিমধ্যেই এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছে। ২০২২ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ১০২ মিলিয়নেরও বেশিবার ডাউনলোড হয়েছে সংস্থার অ্যাপ। প্ল্যাটফর্মটি গত এক বছরে ১০০ মিলিয়নেরও বেশি লেনদেনকারী ব্যবহারকারীর রেকর্ড স্থাপন করেছে।

মিশোর সিএক্সও-গ্রোথ মেঘা আগরওয়াল জিরো কমিশনের এই ব্যবসার মডেল সম্পর্কে বলেন, “আমাদের মিশন হচ্ছে ই-কমার্সকে গণতান্ত্রিকরণ করা। এটা ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ের জন্যই সত্যি। আমরা ক্রেতাদের জন্য এমন প্রডাক্ট আনতে চাই যেটা তাদের প্রয়োজন। ভারতবর্ষের ৮৫ শতাংশ মানুষ আনঅরগানাইজড্ এবং নন-ব্র্যান্ডেড সেক্টর থেকে কেনাকাটা করেন। এই জায়গাটাকে মিশো অনলাইনে নিয়ে আসতে চায়। আমাদের ৮৬ মিলিয়নের বেশি প্রডাক্ট রয়েছে যার মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি প্রডাক্ট ইউনিক, যেগুলো অন্য কোনও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে না। এছাড়া দাম মিশোর ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। মিশোর অন্ততপক্ষে ৮০ শতাংশ প্রডাক্টের দাম অন্য যেকোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মের তুলনায় ১০-১৫ শতাংশ কম। এটাই আমাদের ইউএসপি যে আমরা এমন প্রডাক্ট রাখতে চাই যা আর কোথাও পাওয়া যাবে না এবং এমন দামে যা অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না”।

জিরো কমিশন রেখেও সংস্থা কিভাবে রেভিনিউ জেনারেট করে সেই প্রসঙ্গে ইউএনআই বাংলাকে মেঘা জানান, “মিশোতে আমরা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে রেভিনিউ জেনারেট করি। যেহেতু আমরা ই-কমার্স ব্যাপারটার গণতান্ত্রিকরণ করতে চাইছি তাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সমস্ত ছোট, বড়, মাঝারি ব্যবসাকে সংস্থার ছাতার তলায় আনা যাতে তারা এখানে তাদের প্রডাক্ট সারা দেশকে বিক্রি করতে পারেন। আমরা দেখলাম, বেশিরভাগ জায়গায় ২০-২৫-৩০ শতাংশ কমিশনের কারণে অনেক সাপ্লায়ার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রির জন্য আসতে চান না। সেই জন্য আমরা জিরো কমিশন করে দিয়ে সাপ্লায়াররা যে বিজ্ঞাপন চালান প্ল্যাটফর্মে তার থেকে রেভিনিউ জেনারেট করি”।

অতিমারি পরবর্তী সময়ে অনেক সংস্থা বিজ্ঞাপনের খরচে রাশ টানার ফলে কতটা প্রভাব পড়েছে মিশোর ব্যবসায় আর অন্য কোনও রেভিনিউ মডেল ভাবছেন কিনা জানতে চাওয়ায় মেঘার বক্তব্য, “আমরা কিন্তু অতিমারির পরেও সেরকম কোনও ব্যাপার দেখছি না যে সাপ্লায়াররা কম বিজ্ঞাপন চালাচ্ছেন। আমরা দেখতে পাচ্ছি মিশোর গ্রোথ হচ্ছে কিন্তু পাশাপাশি মিশো অন্য কি উপায়ে রেভিনিউ জেনারেট করতে পারে সেটা দেখাও খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। আমরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভাবনা চিন্তা করছি যাতে আমরা আরো অনেক কিছু প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করতে পারি যা রেভিনিউ জেনারেট করতে পারে”।

পশ্চিমবঙ্গ এবং পূর্ব-ভারতে সংস্থার মার্কেট পেনিট্রেশন সম্পর্কে বলতে গিয়ে মেঘা বলেন, “আমি একটা ব্যাপার পরিষ্কার করে বলতে চাই যে মিশো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম। মিশোর ইকোসিস্টেমে যেমন ক্রেতারা আছেন, বিক্রেতারা আছেন তেমনভাবেই রিসেলার বা এন্টারপ্রেনাররাও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভারতবর্ষের ৭০০ মিলিয়ন মানুষের কাছে স্মার্টফোন আছে এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন কিন্তু তার মধ্যে ২৫০-৩০০ মিলিয়ন মানুষ ই-কমার্সে কেনাকাটা করতে পারেন। মাঝখানের এই বিরাট গ্যাপটাকে পূরণ করবার জন্য কাজ করছেন এই এন্টারপ্রেনাররা। তাই মার্কেট পেনিট্রেশনের কথা বললে শুধু রিসেলারদের দেখলে হবে না, এন্ড কাস্টমারকেও দেখতে হবে। এই দুটো শ্রেণীকে ধরলে পশ্চিমবঙ্গ তথা পূর্ব-ভারতে আমাদের পেনিট্রেশন যথেষ্টই ভাল”।

আগামী অর্থবর্ষে সংস্থার বিনিয়োগের বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু না বললেও পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গে মেঘা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা মার্কেট। আমাদের ফোকাস একইরকম থাকবে পশ্চিমবঙ্গ আর পূর্ব-ভারতের উপর। আগামী এক বছরে আমাদের মিশন হচ্ছে যে ভারতবর্ষের ১৪০ কোটি মানুষ আমাদের থেকে জিনিস কিনুন আর সেই লক্ষ্যে আমরা এগোবো”।

আগামী ২৭ এবং ২৮ অগাস্ট মিশো মহা ইন্ডিয়ান সেভিংস সেল-এর আয়োজন করতে চলেছে। ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসক, ধারাভাষ্যকার এবং জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে আসন্ন উৎসবের মরসুমে বিপণন প্রচারের জন্য গাঁটছড়া বেঁধেছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে মিশো সারাদেশের  টিয়ার-২ এবং টিয়ার-৩ শহরগুলির ইন্টারনেট পেনিট্রেশনের সুবিধাগুলিকে কাজে লাগাতে সাহায্য করে ভারতজুড়ে তাদের পণ্য বিক্রি করার জন্য বিনামূল্যে একটি প্ল্যাটফর্ম অফার করে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয় যে প্ল্যাটফর্মে মোট বিক্রেতার সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়েছে, রেজিস্ট্রেশন গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ গতিতে বেড়েছে।

UNIBANGLA AR

Loading

Spread the love