কলকাতা, মে ৭: সম্প্রতি, কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগে শ্রেষ্ঠ ছবি নির্বাচিত হয়েছে ঈশান ঘোষের ছবি ‘ঝিল্লি’। বিশিষ্ট পরিচালক গৌতম ঘোষের পুত্র ঈশানের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত আরেক পরিচালক অভিজিৎ গুহ যিনি টলিউডের অন্দরে রাণা নামেই পরিচিত। প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন নতুন পরিচালক ঈশানকে।

অভিজিৎ বলেন, “আমরা জানি ঈশান পরিচালক গৌতম ঘোষের ছেলে। অবশ্যই একজন খ্যাতনামা পরিচালকের ছেলে হলে তার পক্ষে অনেক ছোটবেলা থেকেই সিনেমার এক্সপোজারটা পাওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে বলে আমি মনে করি। আসলে সারা পৃথিবীর সিনেমা, সাহিত্য, মিউজিক যদি দেখা আর শোনা না হয় তাহলে কোনও শিল্পী তৈরি হয় না। কোথাও থেকে তো প্রেরণাটা নিতে হবে। ঠিক যেমনভাবে মাটির থেকে রস সংগ্রহ করে গাছ বড় হয়, আমাদেরও সেইরকম শিকড় চাই রস সংগ্রহ করার জন্য”।

সারা পৃথিবীর ছবির সঙ্গে পরিচয় প্রসঙ্গে স্মৃতিরোমন্থন করে অভিজিৎ বলেন, “আমি যখন ক্লাস নাইনে পড়ি তখন থেকে চিত্রবানী বলে একটি সংস্থায় যেতাম। ওয়ার্ল্ড সিনেমা শব্দটির সঙ্গে তখনও আমরা পরিচিত হইনি, আমরা তখন ইউরোপিয়ান সিনেমা বলতাম। সেই ১৯৮০ সাল থেকে আমি ওয়ার্ল্ড সিনেমা দেখা শুরু করেছিলাম। আর আজকে ৫৬ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে আমার এখনও পর্যন্ত ১৮ টা ছবি রিলিজ হয়েছে”।

ঈশানের ছবি দেখার পর অভিজিৎ তাকে আর গৌতম ঘোষের পুত্র হিসেবে পরিচয় দিতে রাজী নন। তাঁর মতে, “ঈশানের ছবি ‘ঝিল্লি’ (Discard) দেখে আমার এটাই বলতে ইচ্ছে করছে যে কোনও গৌতম ঘোষের ছেলে নয়, স্বতন্ত্র একটি অল্পবয়সী ছেলে আলাদা একটা চিত্রভাষার জন্ম দিয়েছে। এমনও নয় যে এই চিত্রভাষা আমি এর আগে কোথাও দেখিনি। তবে আমার মনে হয়েছে, যে জীবন, যেসব চরিত্র, লোকেশন, বাতাবরণ বা কলকাতার এমনসব জায়গা ও ধরেছে যা এর আগে কখনও সিনেমায় ধরা পড়েনি। এরকম লোহা-পাথর-কাঠ-হাড় আর চারজন একেবারে প্রান্তিক চরিত্রের চোখ দিয়ে দেখা কলকাতা ও তার রাজনীতি-সমাজনীতির বাস্তবতা নতুন করে ভাবিয়েছে আমাকে। যে চিত্রভাষার মধ্যে দিয়ে এগুলো উঠে এসেছে সেটা এতটাই অপ্রতিম যে কাঁদিয়ে দেয়, ভিতর থেকে নাড়িয়ে দেয়”।

ঈশানের ছবির কৌশলগত দিক নিয়ে বলতে গিয়ে অভিজিৎ বলেন, “আমি যতদূর জানি গৌতমদার ছবিতে সহকারী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি শেষের দিকের ছবিগুলোতে সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবেও কাজ করেছে ঈশান। ওর নিজের ছবিরও সিনেমাটোগ্রাফি, চিত্রনাট্য, সম্পাদনা এবং পরিচালনা সব একা হাতে সামলেছে। আসলে সত্যিই সিনেমার আলাদা কোনো বিভাগ হয়না, আমরাই বিভাজনগুলো করি। সিনেমা একটা সামগ্রিক এবং সার্বিক ব্যাপার। এই ছবিতে যে ধরণের সাউন্ড এডিটিং করা হয়েছে, সেটা আমি বহুদিন পরে বাংলা সিনেমায় দেখলাম। বাংলা ছবিতে বহুদিন ধরে এই চিত্র ভাষাটাই মিসিং। এরকম পৃথিবীর সিনেমায় হয়নি সেটা আমি বলছি না, কিন্তু বাংলা সিনেমায় এটা বিরল। একজন নতুন পরিচালকের এই ধরণের সিনেমা একজন পরিচালক হিসেবে আমাকে দারুণ গর্বিত করেছে। আমি বলব, গৌতম ঘোষের পুত্র হলেও এই ছবিটা সম্পূর্ণভাবে ঈশানের”।

Loading

Spread the love