অতনু রায়

কলকাতা, অগাস্ট ২২: কলকাতার সাউথ সিটি মলে লিভাইস(Levi’s)-এর নতুন স্টোরে ফ্যাশন আর স্টাইল নিয়ে আড্ডায় মাতলেন সেলেব্রিটি স্টাইলিস্ট ইশা বনশালী। দীর্ঘদিন ধরে আয়ুষ্মান খুরানা সহ বলিউড অভিনেতাদের স্টাইলিস্ট করে তোলা ইশা হালের ফ্যাশন ট্রেন্ডের উপরেই জোর দিলেন।

ইশা বলেন, ‘লিভাইস-এর মত ঐতিহ্যশালী ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারা আমার কাছে সব সময় খুবই সম্মানের। কলকাতার সেশনে ডেনিম পোষাকের স্টাইল নিয়ে কথা বলে খুবই আনন্দ পেয়েছি। আজকে যদি আপনি জিন্সের কথা বলেন, যতই দিন পাল্টাক মানুষ কিন্তু জিন্স পরবে। কারণ ফ্যাব্রিকটাই এমন যে যতই পরুন ‘ওয়ার্ন আউট’ হবে না বরং আপনার বডি টাইপের হিসেবে মোল্ড হবে। আর সেখানে লিভাইস প্রথমবারের জন্য জিন্স বানিয়েছিল ১০০ বছরেরও আগে। প্রত্যেক শহরেরই এক-একটি নিজস্ব স্টাইল বা ঘরানা আছে। কলকাতার পোষাকের স্টাইলের মধ্যেও অনেক চিন্তা-ভাবনার স্তর থাকে, যা কখনই তার স্টাইলকে শৃঙ্খলাহীন হতে দেয় না”।

একান্ত আলাপচারীতায় দেশের অন্যান্য ফ্যাশনেবল শহরের নিরিখে কলকাতার ফ্যাশন সেন্স কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে প্রসঙ্গে ইশা বলেন, “আমি বলব কলকাতার ফ্যাশন সেন্স এখন অনেকটাই বেড়েছে। কলকাতার মানুষ এখন অনেক এক্সপেরিমেন্ট করছেন। সারা পৃথিবীর ফ্যাশন জগতে কোথায় কি হচ্ছে সেই সব ব্যাপারে নজর রাখছেন এবং অবশ্যই নিজেরাও এক্সপেরিমেন্ট করছেন। পাশাপাশি মানুষ অ্যাডেড ভ্যালুর প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করছেন। যেটা কিনছেন সেটা কতভাবে ব্যবহার করতে পারা যায় সেটাও ভাবছেন মানুষ আজকের দিনে। এই ব্যাপারগুলোতে মানুষ আগে নজর দিতেন না কিন্তু এখন দিচ্ছেন। এখন কিছুটা পার্সোনালাইজড্ টাচও যেমন চাইছেন, তেমনই সারা পৃথিবীর ফ্যাশন জগৎ থেকে ইনস্পিরেশন নিয়ে একটা প্রগ্রেস করছেন”।

ফ্যাশন এবং স্টাইল শব্দ দুটিকে সাধারণত মানুষ সমার্থক হিসাবে ব্যবহার করলেও আদপে যে তা নয় সেই কথা বলে ইশা আরও বলেন, “এটা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনার। প্রচুর মানুষ কনফিউজড হয়ে থাকেন ফ্যাশন আর স্টাইল নিয়ে। ফ্যাশনেবল হচ্ছে সে, যার সমস্ত রকমের ব্র্যান্ডের পোষাক কিনে ফেলার সামর্থ্য আছে। কিন্তু ‘মানি কান্ট বাই টেস্ট’, এইটাই ফারাক। এই ‘টেস্ট’ই হল স্টাইল। স্টাইল হচ্ছে আমাদের পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্বের প্রকাশে, সমস্ত বড় বড় ব্র্যান্ডের পোষাক কিনে পরে ফেলায় নয়। স্টাইল বলতে আলাদা কিছু করতে পারা। আজকে আপনি আলাদা কিছু লিখছেন, আলাদা কিছু বলছেন, আলাদা ভাবে কিছু করছেন, এই আলাদা ভাবে কিছু করার প্রবণতাটাই স্টাইল”।

Loading

Spread the love