কলকাতা, সেপ্টেম্বর ১: চার বছর আগে, ৩১ অগাস্ট ২০১৯, কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেডের (KMRCL) ভূগর্ভস্থ কাজের জন্য বউবাজারের দুর্গা পিতুরি লেন ও স্যাকরাপাড়া লেনের অনেকগুলি বাড়ি প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। আবার ১১ মে আর ১৪ অক্টোবর ২০২২, চার মাসের মধ্যে দুবার ভূমি স্খলন হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলির মালিক ও বাসিন্দারা বর্তমানে ফ্ল্যাটঅথবা হোটেলে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন এবং তাঁদের বাড়ি ও কাজের জায়গা ফিরে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন বিগত চার বছর ধরে।

কেএমআরসিএল কর্তৃপক্ষের কোনো হেলদোল নেই।সম্প্রতি মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে গৃহহারাদের বাড়ি পেতে ২০২৭ হয়ে যেতে পারে। গৃহহারাদের প্রশ্ন, এটি যে ২০৫৭ হবে না, তার স্থিরতা কোথায়? দায়িত্ব কে নেবে? মেট্রো লাইন চালু হওয়ার পর তারা যে হাত ধুয়ে পালাবেন না, তার নিশ্চয়তা কোথায়?

কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (KMC) ভূমিকাও ক্ষতিগ্রস্ত স্পষ্ট নয়। কেএমআরসিএল, আইটিডি-আইটিডি সিমেন্টেশন এবং কেএমসির মধ্যে দৃশ্যত দায় এড়াবার খেলা চলছে। ফলস্বরূপ, অসহায় বোধ করছেন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা। তাঁদের একমাত্র দাবি ‘আমাদের বাসস্থান ফিরিয়ে দাও’।

“মেট্রো কর্তৃপক্ষের উদাসীন মনোভাব আমাদের মধ্যে এমন ভয়ের সঞ্চার করেছে যে, আদৌ সেই পুনর্নির্মিত বাড়িতে আমাদের নিরাপদ পুনর্বাসন হবে কিনা সন্দেহ”, বলছেন বউবাজার মাটি ও মানব কল্যাণ সোসাইটির সচিব, সঞ্জয় সেন।

ওই এলাকার ৪০ জনেরও বেশি বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে বিগত চার বছরে। তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
 
মাটি ও মানব কল্যাণ সোসাইটির দাবি:
১) বিধ্বস্ত এলাকার পুনরুদ্ধারের সাথে সাথে প্রকল্পের অবস্থার নিয়মিত আপডেট দিতে হবে।
২)  ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলির অবিলম্বে প্রয়োজন অনুসারে মেরামত ও পুনর্গঠন করতে হবে।
৩) যাঁরা এখনও পুনর্বাসনের ক্ষতিপূরণ পাননি, বিশেষ করে ২০২২ তে যাঁরা বাড়ি হারিয়েছেন, তাঁদের সেটি দিতে হবে।
৪) ক্লাস্টার পরিকল্পনা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

Loading

Spread the love